পারমাণবিক বোমা নয়, কিন্তু ‘ডার্টি বোমা’ তৈরির সক্ষমতা ইউক্রেনের রয়েছে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজারভ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার
পারমাণবিক বোমা নয়, কিন্তু ‘ডার্টি বোমা’ তৈরির সক্ষমতা ইউক্রেনের রয়েছে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজারভ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে স্বতন্ত্রভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতা না থাকলেও, দেশটি চাইলেই ‘ডার্টি বোমা’ তৈরি করতে পারে—এমনটাই দাবি করেছেন ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিকোলে আজারভ। রুশ বার্তা সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আজারভ বলেন, “বর্তমানে ইউক্রেনের এমন বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই যা একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজন। তবে ‘ডার্টি বোমা’ তৈরি করার মতো উপকরণ ও উপযোগী পরিস্থিতি কিয়েভ সরকারের রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে পারমাণবিক জ্বালানির ব্যবহার থেকে যে বর্জ্য তৈরি হয়েছে, তার বিপুল মজুদ রয়েছে। সেই বর্জ্য ব্যবহার করে ডার্টি বোমা তৈরি করা অসম্ভব নয়। বাস্তবিক অর্থেই এমন সম্ভাবনা আছে।”

‘ডার্টি বোমা’ বলতে সাধারণত এমন একটি বিস্ফোরক ডিভাইস বোঝায় যার মূল উদ্দেশ্য পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো নয়, বরং বিস্ফোরণের সঙ্গে রেডিওঅ্যাকটিভ বর্জ্য ছড়িয়ে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর প্রভাবে মানবদেহ, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর ওপর ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আজারভ আরও বলেন, “তবে আমি মনে করি না ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি তত্ত্বাবধায়কেরা, বিশেষ করে ব্রিটিশরা এতটা হঠকারি সিদ্ধান্ত নেবে। এমন পদক্ষেপ যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে তা তারা জানে। আমি আশা করি তারা ইউক্রেনকে এ ধরনের আত্মঘাতী পথে এগোতে দেবে না।”

তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বিশেষ করে ইউক্রেনের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে সৃষ্ট ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য এবং তা সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে ‘ডার্টি বোমা’ তৈরির আশঙ্কার কথা বলে আসছে, যদিও কিয়েভ এবং এর পশ্চিমা মিত্ররা সেই দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তবে সাবেক একজন ইউক্রেনীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই আশঙ্কার প্রকাশ বিষয়টিকে নতুন মোড় দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে এমন কোনো উদ্যোগ শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ভয়াবহ সঙ্কটের জন্ম দিতে পারে। তাই কিয়েভ ও এর মিত্রদের এই বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত না হলে এই আশঙ্কা ধীরে ধীরে বাস্তবতার রূপ নিতে পারে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত