গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৯ বার
গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজপথ। প্রতিবাদে সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামক সংগঠনটি। বুধবার বিকালে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ঘোষণায় এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রকাশিত পোস্টে জানানো হয়, গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশের সব ইউনিটকে স্থানীয় ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও প্রশাসনিক এলাকাগুলোতে অবরোধ কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এরই মধ্যে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে টানা হামলা ও পাল্টা প্রতিরোধের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা—নাহিদ, হাসনাত ও সারজিস—জেলা সার্কিট হাউজে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে আয়োজিত এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেই প্রথম হামলার সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল আকারে এসে মঞ্চ ভাঙচুর করে, সাউন্ড সিস্টেম ও চেয়ার ছুড়ে ফেলে, উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তখনই পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে।

সমাবেশ শেষে এনসিপির গাড়িবহর যখন শহরের চৌরঙ্গী মোড় হয়ে বের হচ্ছিল, তখন ফের আক্রমণ হয়। দুই পাশ থেকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পুলিশ কয়েক দফা চেষ্টা করেও হামলাকারীদের পিছু হঠাতে ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তবে তারা শুরুতে কিছু সময় ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়েছিল। পরে আবার ফেরত এসে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত চার সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অবনত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান।

এমন এক উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হয় এবং প্রশাসন কীভাবে এই সংকট সামাল দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com