একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন | প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আরও তিনজন কর পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বদলির চিঠি প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান তিনটি পৃথক আদেশে এই বরখাস্তের নির্দেশ দেন। গত এক মাসে এনবিআরের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মোট ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের আবদুল্লাহ আল মামুন, কর অঞ্চল-৬–এর কর পরিদর্শক রুহুল আমিন এবং কর অঞ্চল-২–এর কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ। আদেশে উল্লেখ করা হয়, পাঁচজন উপকর কমিশনারের বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে এঁরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং আদেশ অমান্যকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই কর্মকাণ্ড সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারার পরিপন্থী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের সময় তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। এসব সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও বটে।
এর আগে গতকাল বুধবারও এনবিআরের বিভিন্ন স্তরের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়। গত মঙ্গলবার আরও ১৪ জন শুল্ক, কর ও ভ্যাট কর্মকর্তাকে একই অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিলেন—মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার, যিনি এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি; ঢাকার কর অঞ্চল-৮–এর অতিরিক্ত কর কমিশনার ও পরিষদের সহসভাপতি মির্জা আশিক রানা; এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব শাহাদাত জামিল। এ ছাড়া কক্সবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদেরও বরখাস্ত করা হয়।
জানা গেছে, এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। গত ২৮ ও ২৯ জুন তাঁরা সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করেন। আন্দোলন হয়েছিল এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ—রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। এরপর ব্যবসায়ী মহলের মধ্যস্থতায় আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু আন্দোলনের রেশ ধরে এনবিআর একে একে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।
শুধু বরখাস্ত নয়, এনবিআরের তিনজন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনারকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয় কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগে। আরও বিস্তৃত তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যারা ইতিমধ্যে ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
এই সাম্প্রতিক ব্যবস্থাগুলো এনবিআরের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংস্কার চেষ্টাকে ঘিরে এক অস্থির বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শৃঙ্খলা ও নিয়ম বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ইতোমধ্যেই নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজস্ব খাতের সংস্কার যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি সে পথে এগোতে হলে সব পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস ও সমঝোতার আবশ্যকতা আরও বেশি।