ভারতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, আগুনে পুড়ে নিহত ১২

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৬ বার
ভারতে বাস লরি সংঘর্ষ নিহত

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে মার্কাপুরম এলাকায়, যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাস, যা হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলসের অধীনে চলছিল, তেলেঙ্গানা-এর নির্মল থেকে নেল্লোর-এর উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ভোর প্রায় ছয়টার দিকে বাসটি একটি লরির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির ভেতরে থাকা যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বের হতে পারেননি। ফলে কয়েকজন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হন, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আগুনের তীব্রতায় বাসটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়, এবং উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে দমকলকর্মী ও উদ্ধারকারী দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-এর প্রতিবেদনে প্রথমে আটজন নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

মার্কাপুরম এলাকার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ নাগরাজু একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, অন্তত আটজন যাত্রী আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৮ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। অনেকেই নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুনে পুড়তে থাকা বাস থেকে যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধীরে ধীরে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, চালকের অসাবধানতা কিংবা ভোরের কুয়াশা—এই ধরনের কোনো একটি বা একাধিক কারণ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে এবং বাস ও লরির চালকদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করছে।

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতি, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্যের কারণে প্রায়ই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনাটি আবারও সেই বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের জন্য এই শোক কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন। আহতদের পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, প্রিয়জনদের সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায়।

সব মিলিয়ে, অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরমে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি মানবিক ট্র্যাজেডির একটি নির্মম উদাহরণ। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত