সর্বশেষ :
আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

পদ্মা নদীতে বাসডুবি: নিহত বেড়ে ২৬, উদ্ধার অভিযান চলছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮ বার
পদ্মা নদী বাসডুবি নিহত

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সোয়া ৫টার দিকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা চেষ্টা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এর ক্রেন ব্যবহার করে বাসটি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা অভিমুখে যাওয়া ওই বাসে ৪০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রেহেনা আক্তার, মর্জিনা খাতুন, রাজীব বিশ্বাস, জহুরা অন্তি, কাজী সাইফ, মর্জিনা আক্তার, ইস্রাফিল, সাফিয়া আক্তার রিন্থি, ফাইজ শাহানূর, তাজবিদ, আরমান খান (বাসচালক), নাজমিরা বা জেসমিন, লিমা আক্তার, জোস্ন্যা, মুক্তা খানম, নাছিমা, আয়েশা আক্তার সুমা, সোহা আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা, আরমান (৭ মাস), আব্দুর রহমান, সাবিত হাসান, আহনাফ তাহমিদ খান, উজ্জ্বল, আসরাপুল এবং জাহাঙ্গীর। এদের স্বজনরা হতভম্ব হয়ে ঘটনার সংবাদ শুনেছেন, আবার অনেকের চোখের সামনে এই দুর্ঘটনার মর্মান্তিক চিত্র উপভোগ করতে হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাসডুবির ঘটনায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকটি নিরাপত্তার ব্যর্থতা চোখে পড়ে। পন্টুন থেকে ফেরি ওঠার সময় তীব্র ভিড় এবং সঠিক নোঙর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী দল রাতভর নদীতে কাজ করে, বিশেষভাবে ‘হামজা’ জাহাজের ক্রেন দিয়ে বাসটি তোলা হয়। উদ্ধারকারী কর্মীরা জানিয়েছেন, দ্রুত এবং সঠিক সময়ে কাজ না হলে আরও বেশি প্রাণহানি হতে পারত।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, দুর্ঘটনার ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। আহত যাত্রীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করবে।

নৌপরিবহন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী যানবাহনের চলাচলের সময় নির্দিষ্ট সীমানা, যাত্রীসংখ্যা সীমা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলা অপরিহার্য। দুর্ঘটনার কারণসমূহের মধ্যে ঘাটে সঠিক তীব্রতা নির্ণয় এবং যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিল হওয়াকে উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়া, ফেরি অপারেশন চলাকালীন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ক্রু ও নিরাপত্তা কর্মীর উপস্থিতি জরুরি।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার ও পুনরায় এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দ্রুত তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করান, নদীতে যানবাহন চলাচল শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে দুর্ঘটনা যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে। পদ্মা নদীর মতো বৃহৎ নদীর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে পালন করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের তৎপরতা যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই দুঃখজনক ঘটনায় বাংলাদেশে নৌপরিবহন নিরাপত্তা এবং নদী পাড়ের অবকাঠামোগত দুর্বলতার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা আবারও浮িয়ে এসেছে। পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত মনিটরিং, তত্ত্বাবধান এবং জরুরি প্রস্তুতি অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত