ভারত পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী নয়: জয়শঙ্কর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৫ বার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সর্বদলীয় বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারত পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কোনো সংঘাতে কাজ করবে না। ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আলোচিত এই বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভারত স্বতন্ত্রভাবে এবং নিজের কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে, যাতে জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের পরিচালিত ‘স্বার্থ বিভাগ’-এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করা হয়। ইতিহাসে দেখা যায়, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সংঘাতে মধ্যস্থতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২০ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে আলোচনায় এবং ২০১৯ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়েছে, কথিত নিষ্ক্রিয়তা বা নীতিগত অস্পষ্টতার অভিযোগ সঠিক নয়। বিভিন্ন বিবৃতি প্রকাশ, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ভারতের সক্রিয় অবস্থানের প্রমাণ দেয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যারা এখনও ইরানে রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রয়েছে।

ভারত এবং ইরানের সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চললেও এটি ভারতের ইরানি তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেই। এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল। ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে আসে। এই কৌশল ভারতের বৈচিত্র্যময় এবং বাস্তবসম্মত জ্বালানি নীতির প্রতিফলন ঘটায়।

এছাড়া বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইসরায়েলও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ভারত এখনও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অংশ হিসেবে কাজ করছে। তবে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন অবস্থার কারণে ব্রিকস জোটের ভেতরে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া সহজ নয়।

সর্বদলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে উত্থাপিত সকল প্রশ্নের জবাব সরকার দিয়েছে এবং বৈঠকে উপস্থিত সবাই একমত হয়েছে যে, দেশের স্বার্থ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য। বৈঠকে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং ভারতের কার্যকর ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করান, ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে। ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোতে সমতা বজায় রাখতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখছে না। এটি ভারতের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কূটনৈতিক নীতি প্রতিফলিত করছে, যেখানে দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হচ্ছে।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা প্রেরণ করেছে যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পদক্ষেপে ভারত কোনোভাবে সমর্থন দেবে না এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। এছাড়া, দেশটির মধ্যে জ্বালানি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংহত এবং বাস্তবমুখী কৌশল অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত