প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে হঠাৎ আগুন লেগে দুই বগি পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম থেকে ১৮টি বগি নিয়ে ঢাকা গামী ট্রেনটি সীতাকুণ্ড অতিক্রম করার সময় একটি এসি বগিতে ধোঁয়া দেখতে পান যাত্রীরা। মুহূর্তে ট্রেনচালক সতর্ক হয়ে ট্রেন থামিয়ে দেন এবং যাত্রীরা নিরাপদে ট্রেন থেকে নামতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ধোঁয়া দ্রুত আগুনে রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুন তৎক্ষণাৎ লেলিহান শিখায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পাওয়ার কারেও পৌঁছায়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলিটারি একাডেমির সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে আগুনকে অন্য বগিতে ছড়াতে বাধা দেয়।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী কর্মকর্তা এহসান আলী জানান, অগ্নিকাণ্ডে একটি এসি বগি এবং পাওয়ার কার পুড়ে গেছে। পাওয়ার কারে থাকা জেনারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকাল ৮টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
রেলওয়ের পূর্ব বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা সুবর্ণ এক্সপ্রেসও যথাসময়ে ছাড়তে পারেনি। নিরাপত্তার কারণে বিকল্প লাইন থাকলেও ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির পুরো পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।
ঘটনার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ হবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে করণীয় সুপারিশ করা। সূত্র জানায়, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড মূলত যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে ঘটে থাকে। রেলওয়ের নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় আগুন দেখে অনেক যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ট্রেনচালক এবং ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় যাত্রীরা নিরাপদে বাইরে চলে আসতে সক্ষম হন। স্থানীয়রা বলেন, “যদি আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হত, তাহলে পুরো ট্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। কিন্তু সবাই মিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।”
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় ও পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হবে। পুড়ে যাওয়া বগি ও পাওয়ার কারের পরিবর্তে নতুন বগি সংযুক্ত করা হবে। যাত্রীরা পুনরায় সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিত করতে রেলওয়েকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করারও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় সামাজিক নিরাপত্তা, ট্রেনের যাত্রী ও কর্মীদের সুরক্ষা এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণিত হলো। ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ের কর্মীরা তাদের দায়িত্বে নিষ্ঠা ও দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অতএব, চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন লেগে দুই বগি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার গুরুত্বের ওপর একবার আরও আলোকপাত করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।