প্রকাশ: ১৮ জুলাই | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ইতিহাসে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ও ব্রায়ান লারা—এই দুই নাম কিংবদন্তির মর্যাদায় অভিষিক্ত। তবে বয়সের ব্যবধানে দুজনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ঠিক একসঙ্গে সমান্তরালে এগোয়নি। ভিভ যখন তাঁর দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে, তখন লারার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা মাত্র। এই দুই তারকার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। তবে তাঁদের প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই উল্টো ধরণের—অপ্রত্যাশিত, অপমানজনক এবং চরম হতাশাজনক।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট-এর ‘স্টিক টু ক্রিকেট’ পডকাস্টে ব্রায়ান লারা এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতেই তাঁকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। লারা বলেন, যখন তিনি প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দলে সুযোগ পান, তখন উচ্ছ্বাসে ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করে নিজের ব্যাগ রেখে আসেন। তবে সে সময় ড্রেসিংরুম ছিল ছোট এবং অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের জায়গা দিতে তেমন সদিচ্ছাও ছিল না। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখেন, তাঁর ব্যাগটি বাইরে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। অবাক হয়ে তিনি দেখেন, স্বয়ং স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস তাঁর ব্যাগ ফেলে দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর ড্রেসিংরুমে আর জায়গা না পেয়ে লারাকে বাথরুমেই বসে কাটাতে হয় তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি টেস্ট দিন। নিজের ক্রিকেট জীবনের সূচনায় এমন অপমানজনক অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে ধাক্কা দিলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লারা নিজেকে প্রমাণ করেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে।
পডকাস্টে লারার এই বর্ণনা শুনে উপস্থিত ইংল্যান্ডের সাবেক চার ক্রিকেটার—ডেভিড লয়েড, ফিল টাফনেল, মাইকেল ভন ও স্যার অ্যালিস্টার কুক—প্রথমে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। তাঁদের মুখে একরকম অবিশ্বাস ফুটে ওঠে। কিন্তু মুহূর্ত পরেই পুরো টিম অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। তাঁরা বিষয়টিকে অনেকটাই ‘ক্রিকেট সংস্কৃতির অংশ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, যদিও এটা যে কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য দুঃখজনক অভিজ্ঞতা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ব্রায়ান লারার এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়; বরং এটি প্রকাশ করে দেয় একটি সময়ের খেলোয়াড়দের মনোভাব, ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি এবং নতুনদের প্রতি আচরণ কেমন ছিল। স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস পরবর্তীতে লারার প্রতিভা ও অর্জনের বড় ভক্ত হয়ে ওঠেন, যা প্রমাণ করে, সময় ও সাফল্য অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। তবুও এই ঘটনাটি ক্রিকেট ইতিহাসে রয়ে যাবে এক অদ্ভুত অথচ শিক্ষণীয় স্মৃতি হিসেবে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন