প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে ব্যয় বহন করার জন্য আঞ্চলিক আরব দেশগুলোর সহায়তা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের খরচ কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং ট্রাম্প এর একটি বড় অংশ আরব দেশগুলোর মাধ্যমে পূরণ করার পরিকল্পনা ভাবছেন। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প অতীতের মতো এবারও আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।
লেভিট বলেন, ‘এটি প্রেসিডেন্টের একটি ভাবনা, এবং আমি মনে করি তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী থাকবেন। এ ব্যাপারে তিনি ভবিষ্যতে আরও কিছু প্রকাশ করতে পারেন।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ঘটেছিল, তখন মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়েছিল, তেমনি এবারও সম্ভাব্য যুদ্ধের খরচ বহন করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর দিকেই দৃষ্টি থাকতে পারে।
উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতকে ইরাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে একটি বৈশ্বিক জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিল। জোটের সদস্য দেশগুলো এবং অন্য কিছু মিত্র দেশ যেমন জার্মানি ও জাপান, সেই সময় যুদ্ধের খরচের জন্য ৫৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, মিত্র দেশগুলোকে সরাসরি জড়িত না করেই।
এই মাসের শুরুতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি ভাষ্যকার শন হ্যানিটি জানিয়েছিলেন, যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানকে যুদ্ধের খরচ বহন করার শর্ত রাখতে হবে। হ্যানিটির বক্তব্য ছিল, যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হওয়ায় তাদের অবশ্যই যুদ্ধের সম্পূর্ণ খরচ আমেরিকাকে দিতে হবে। তবে ইরান ক্ষতিপূরণের বিষয়টিকে তাদের শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) অনুমান করেছে যে, সংঘাতের মাত্র ১২ দিনে যুদ্ধের খরচ ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ ৩১তম দিনে প্রবেশ করায় এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের কাছে কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের অনুমোদনের অনুরোধ করেছে, যাতে ইরানকে সামরিক অভিযানে এবং পেন্টাগনের অস্ত্রের পুনঃপূরণে ব্যবহার করা যায়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব ব্যয় কমিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের উপর চাপ বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। এটি কৌশলগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে বলা হলে এতে আঞ্চলিক রাজনীতির ভারসাম্যও প্রভাবিত হতে পারে।
এই ধরনের একতরফাভাবে ব্যয় চাপানোর সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন। তারা বলছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আরব দেশগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা সবসময় সমর্থিত হবে এমন নয়।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের ইরান সম্পর্কিত পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং সামরিক সরবরাহের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে, এই ব্যয় বহন করানোর বিষয়টি কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়াতে পারে।
ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং আরব দেশগুলোর ওপর এই ধরনের চাপ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কৌশলকে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, সামরিক ব্যয় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।