আইএলও: কর্মসংস্থানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৫ বার
আইএলও: কর্মসংস্থানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রম অধিকার রক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আশার বার্তা এসেছে। বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করা সংস্থা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশকে এ খাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই আশ্বাস দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো।

৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডির অধিবেশনে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড সফররত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-এর সঙ্গে বৈঠকে আইএলও প্রধান বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রম সচিব আবদুর রহমান তরফদার।

বৈঠকে গিলবার্ট হোংবো বলেন, বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেশটির জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আইএলও আগ্রহী। তিনি সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং সেই অগ্রযাত্রায় আইএলও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।

বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে অনেক দূর এগিয়েছে, তবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে আইএলও, বিশেষ করে তাদের ঢাকা কার্যালয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আর্টিকেল ২৬ সংক্রান্ত বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী আইএলও মহাপরিচালকের সহযোগিতা কামনা করেন। গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন অর্জন করেছে। তিনি বলেন, শ্রমখাতে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় শ্রমমন্ত্রী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং বিপণন সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে এসব প্রতিষ্ঠানের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বীমা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বৈঠকে বলেন, সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই বৈঠকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হয়। শ্রমমন্ত্রী জানান, আগামী জুন মাসে আইএলও মহাপরিচালকের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরকে সরকার স্বাগত জানায়। এই সফর বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সামাদ আজাদ-ও উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশের শ্রমখাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো শ্রমশক্তি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে লাখো শ্রমিক কাজ করছেন, যারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই যুগে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আইএলও’র এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক এই সংস্থার সহায়তায় শ্রমখাতের কাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিমালা প্রণয়ন এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ ও আইএলও’র এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত