রাজধানীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ বার
রাজধানীতে মায়ের সামনেই কলেজছাত্রী মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নির্মাণ ঠিকাদারের নৃশংস হামলায় দিয়া মনি নবনী নামে ২০ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্য, যেখানে মায়ের সামনেই মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত দিয়া মনি নবনী বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি যাত্রাবাড়ীর ভাঙা প্রেস এলাকার একটি আবাসিক ভবনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। পরিবারের আহত সদস্যরা হলেন নিহতের মা নুসরাত জাহান মৌসুমী, ছোট বোন জয়া এবং ভাই মোয়াজ। হামলার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দিয়া মনির জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। ওই ভবনের নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার আবু মুসা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করে তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই পরিবারের ওপর হামলা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে হামলাকারী হঠাৎ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিবারের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় মা নুসরাত জাহানের চোখের সামনেই দিয়া মনিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়। তাঁর আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে কেউ প্রতিরোধ করার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দিয়া মনিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে গুরুতর আহত মা ও দুই সন্তানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে আহতদের নিয়ে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী গাড়িচালক বিল্লাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। তাঁর ভাষায়, ঘটনার সময় কেউ ভাবতেও পারেনি যে একটি আর্থিক বিরোধ এমন নৃশংস রূপ নেবে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় দিয়া মনির স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। ছোট সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালে ছিলেন। ফলে পুরো পরিবারটি এক মুহূর্তেই ভয়াবহ হামলার শিকার হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, আহতদের হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দিয়া মনিকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত আবু মুসা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন নৃশংস ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। একজন শিক্ষার্থীর জীবনের এমন নির্মম সমাপ্তি পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের সব কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধকেই মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে পুরো চিত্র পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা আর্থিক লেনদেনের কারণে এমন সহিংসতা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা দেয়। তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, একজন তরুণ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এ ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে রাজধানীর এই ঘটনা আবারও নগর জীবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একটি আর্থিক বিরোধ কীভাবে একটি পরিবারের জীবনে এমন ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত