প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ১১ দলীয় একটি জোট। দ্বিতীয় দফায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে জোটটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্তরে ধারাবাহিক আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা হবে। এই সময়ের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল, সেমিনার ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হবে। জোটের নেতারা মনে করছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে তাদের দাবি আরও সুসংগঠিতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটভুক্ত দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ২৫ এপ্রিল দেশের সব বিভাগীয় শহরে একযোগে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় ২ মে প্রতিটি জেলা শহরে একই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু করে ২ মে পর্যন্ত সময়জুড়ে সারাদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে গণভোট বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, জনগণের গণরায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এ কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সরকার যে ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে, তা অতীতের স্বৈরাচারী আচরণের সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠছে। তার মতে, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হলে তার রাজনৈতিক পরিণতি সরকারকেই বহন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যে তেল সংকট এবং হাম রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও উঠে আসে। তিনি বলেন, এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে।
এছাড়া প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে, নইলে জনগণের আস্থা কমে যাবে এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলীয় জোটের এই নতুন কর্মসূচি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। গণভোট ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক কর্মসূচি ও গণআন্দোলনের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও গতিশীল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বাস্তবিক সংকট নিরসনে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য খাত এবং প্রশাসনিক সেবা নিয়ে জনমনে যে চাপ রয়েছে, তা সমাধানের দিকে মনোযোগ দিলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে জোটের নেতারা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে বলছেন, গণভোট বাস্তবায়ন ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। তারা মনে করেন, জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণই একটি টেকসই রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচি কতটা জনসম্পৃক্ততা অর্জন করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দাবিগুলো কতটা এগিয়ে যাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।