ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি গঠনের ঘোষণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪০ বার

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করতে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে ইউনিয়নভিত্তিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ে তার নির্বাচনী এলাকার একটি ১৫ সদস্যের ইমাম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের প্রতি দায়বদ্ধ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে, যা স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষ বসবাস করেন। এই বৈচিত্র্যকে শক্তিতে পরিণত করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চান তিনি। ইতোমধ্যে খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও সংসদ ভবনে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান তিনি।

তার মতে, সংসদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারেন।

ডেপুটি স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সমাজে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইমামদের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মাধ্যমে সামাজিক বিরোধ মীমাংসা হলে তা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সমাধান সম্ভব। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ইমাম ও অন্যান্য সমাজপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করাই তার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে তিনি শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেতে চান। তিনি সবার কাছে দোয়া চান, যেন তিনি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠনের এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে। এতে করে তৃণমূল পর্যায়ের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

একই সঙ্গে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সঠিক সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মত দিয়েছেন। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার সুষম বণ্টন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডেপুটি স্পিকারের এই ঘোষণা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত