সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

অতীত নয়, আদর্শ দেখবে এনসিপি: নাহিদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৮ বার

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছেন মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, অতীতে যে কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও এখন থেকে আদর্শ ও অবস্থানই হবে মূল বিবেচ্য। তার ভাষায়, কেউ যদি আগে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও থাকেন, তাতে কোনো বাধা নেই—বর্তমানে তিনি কী আদর্শ ধারণ করছেন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নেতাকর্মীদের যোগদান উপলক্ষে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে এনসিপির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বর্তমানের প্রতিশ্রুতি ও আদর্শই এনসিপির জন্য মুখ্য। তার মতে, যারা আজ থেকে এনসিপিতে যুক্ত হবেন, তারা দলটির নীতিমালা ও গঠনতন্ত্র মেনে সংগঠক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দলীয় আদর্শ ধারণ করে দায়িত্বশীল রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে।

এনসিপি-এর আহ্বায়ক আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা তাদের লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটিকে সামনে রেখেই তারা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান।

তার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, যারা আজ এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন, তারা আসলে দীর্ঘদিন ধরেই একই আদর্শিক অবস্থানে ছিলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন সেই বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

তিনি দেশব্যাপী তরুণ সমাজসহ সব বয়সী মানুষকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে এই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু সীমারেখাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, গণহত্যা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত—তাদের কোনোভাবেই দলে স্থান দেওয়া হবে না। এই অবস্থানকে তিনি দলের নৈতিক ভিত্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তার মতে, জনগণ ইতোমধ্যে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে এবং সেই মত বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অবস্থান রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। অতীতের বিভাজনকে পাশ কাটিয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এই নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় দল পরিবর্তন বা নতুন দলে যোগদান নতুন কিছু নয়, তবে আদর্শভিত্তিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এতে একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও বাড়ে।

সব মিলিয়ে, নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। অতীতের পরিচয়ের চেয়ে বর্তমানের আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়ার এই নীতি ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত