শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
বিএনপি নেতা বহিষ্কার শ্রীপুর

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে স্থানীয় পর্যায়ের ছয়জন বিএনপি নেতাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ও সদস্য সচিব খাইরুল কবির মন্ডল আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ এপ্রিল শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে কিছু নেতার আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও সংগঠনবিরোধী। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা দাওয়াত না পাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে উপজেলা বিএনপি নেতৃত্ব।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শ্রীপুর উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযুক্ত ছয়জনকে গাজীপুর ইউনিয়নের সব পদ থেকে এবং প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান মাস্টার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসমত আলী হাসু, সাবেক সদস্য আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম এবং রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, এমন একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তারা মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অরাজনৈতিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের দ্রুত সিদ্ধান্ত একটি সাংগঠনিক বার্তা দেয় যে, কোনো ব্যক্তির আচরণ দলীয় ভাবমূর্তির ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ইতিবাচক হলেও আচরণে সংযম বজায় রাখা জরুরি ছিল।

অন্যদিকে দলীয় একাংশ মনে করছে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হলেও উপজেলা বিএনপি নেতৃত্ব বলছে, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে।

সব মিলিয়ে, একটি বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের একটি উদাহরণ হয়ে থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত