মেসি-নেইমার বার্সায় ফিরতে না পারার কারণ জানালেন জাভি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
মেসি নেইমার বার্সা প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বার্সেলোনার ইতিহাসে আধুনিক যুগের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন জাভি হার্নান্দেজ। খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবকে অসংখ্য শিরোপা এনে দেওয়া এই স্প্যানিশ কিংবদন্তি কোচ হিসেবেও ন্যু ক্যাম্পে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করেছিলেন। তবে তার কোচিং অধ্যায়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো—সাবেক তারকা লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র এবং পেদ্রো রদ্রিগেজকে আবারও বার্সেলোনায় ফিরিয়ে আনার ব্যর্থ চেষ্টা।

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিওর ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভি নিজের সেই সময়কার পরিকল্পনা ও বাস্তবতার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বার্সেলোনাকে আবার ইউরোপের শীর্ষে ফেরাতে একাধিক বড় পরিকল্পনা করেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল পুরনো তারকাদের ফিরিয়ে আনা।

জাভি বলেন, তিনি দানি আলভেসকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, অভিজ্ঞতা এবং ক্লাবের সঙ্গে আবেগিক সম্পর্ক থাকা খেলোয়াড়রা দলে ফিরলে তরুণদের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি নেইমার, পেদ্রো এবং এমনকি লিওনেল মেসিকে পুনরায় দলে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

নেইমার এবং পেদ্রোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্লাবের আর্থিক সীমাবদ্ধতা। জাভির ভাষায়, “আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।” বার্সেলোনার সেই সময়ের আর্থিক সংকট নতুন খেলোয়াড় আনা তো দূরের কথা, বড় চুক্তির ভার বহন করাকেও কঠিন করে তুলেছিল। ইউরোপীয় ফুটবলের ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নিয়মও ক্লাবের পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তোলে।

তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল লিওনেল মেসিকে ঘিরে জাভির স্বপ্ন। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মেসির প্রত্যাবর্তন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছিল। জাভি জানান, ২০২৩ সালে তারা সত্যিকারের একটি পরিকল্পনা করেছিলেন মেসিকে ফিরিয়ে আনার জন্য। প্রায় পাঁচ মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলেছিল এবং প্রাথমিকভাবে সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

জাভির দাবি অনুযায়ী, মেসির সঙ্গে ক্লাবের আলোচনা চললেও শেষ মুহূর্তে বিষয়টি আটকে যায়। তিনি বলেন, “সব প্রস্তুত ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা এতে সম্মতি দেননি।” এই সিদ্ধান্তই মূলত মেসির প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করে দেয়।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু আর্থিক কারণই নয়, বরং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে লাপোর্তা ও মেসির সম্পর্ক ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে বলে ধারণা করা হয়। যদিও দুই পক্ষই প্রকাশ্যে সৌহার্দ্যের কথা বলেছে, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।

২০২১ সালে বার্সেলোনার অর্থনৈতিক সংকট এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে নতুন চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। সেই সময় লা লিগার বেতন কাঠামোর নিয়ম মেনে চলতে না পারায় মেসিকে বিনামূল্যে ক্লাব ছাড়তে হয়। এই ঘটনা শুধু বার্সেলোনা নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও এক আবেগঘন মোড় তৈরি করেছিল।

বর্তমানে লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন, যেখানে তিনি নতুন করে নিজের ক্যারিয়ারকে উপভোগ করছেন। অন্যদিকে নেইমারও ইউরোপীয় ফুটবলের বাইরে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।

জাভির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি বার্সেলোনাকে শুধু বর্তমান নয়, অতীতের গৌরব ফিরিয়ে দিয়েও শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন। তবে আধুনিক ফুটবলের আর্থিক বাস্তবতা এবং ক্লাব পরিচালনার জটিল কাঠামো সেই স্বপ্নকে বাস্তব হতে দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জাভির এই প্রচেষ্টা বার্সেলোনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ এটি শুধু খেলোয়াড় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ছিল না, বরং ক্লাবের হারানো পরিচিতি ও আবেগ পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা ছিল।

ফুটবলপ্রেমীরা এখনও কল্পনা করেন, যদি মেসি, নেইমার, পেদ্রো এবং আলভেস একসঙ্গে আবার ন্যু ক্যাম্পে ফিরতেন, তাহলে বার্সেলোনার চেহারা কেমন হতো। যদিও সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়নি, তবে এটি প্রমাণ করে যে বার্সেলোনার প্রতি এই তারকাদের টান এখনও কতটা গভীর।

সব মিলিয়ে জাভির এই স্বীকারোক্তি ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বার্সেলোনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি অতীতের সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও আবারও প্রশ্ন উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত