সন্দ্বীপে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার
সন্দ্বীপে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে স্থানীয় পর্যায়ের এক জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। রবিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেলিশ্যার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত ব্যক্তি হাফেজ আহমেদ সজীব, যিনি ওই ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় হাফেজ আহমেদ সজীব নিজ বাড়ির উদ্দেশে পেলিশ্যার বাজার থেকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাজারের পূর্ব পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়রা পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার মাথায় একাধিক গভীর আঘাত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানান, তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।

আহত হাফেজ আহমেদ সজীব অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচার-প্রচারণার কারণে তাকে কয়েকদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, হামলার সময় তিনি আকবর ও আলভি নামে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সন্দ্বীপ উপজেলা ও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতারা এই হামলাকে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপজেলা জামায়াতের সভাপতি দিদারুল ইসলাম ফিরোজ এবং সেক্রেটারি আবু তাহের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে একজন কর্মীর ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলাউদ্দীন সিকদারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে একজন কর্মীর ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুত বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”

অন্যদিকে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি বলেন, “এটি একটি গুরুতর ঘটনা। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে কাজ চলছে।”

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও স্থানীয় বিরোধ নিয়ে একাধিক ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুর্বল ব্যবস্থা এমন ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাফেজ আহমেদ সজীবের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, তিনি একজন ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন এবং তার ওপর এই হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

সব মিলিয়ে সন্দ্বীপের এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় জনগণ—সবার কাছেই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত