প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের New York City-এ ব্যাপক প্রস্তুতি ও নতুন জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উচ্চ টিকিটমূল্য, যাতায়াত খরচ এবং স্টেডিয়ামে সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে সাধারণ দর্শকদের অংশগ্রহণ সহজ করতে শহর কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় ম্যাচ উপভোগের সুযোগ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে নিউইয়র্ক শহরকে উৎসবের নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ না রেখে শহরের সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে এই ফুটবল উন্মাদনা।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এবং অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের যৌথ উদ্যোগে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে দর্শকদের আর্থিক চাপ কমানো এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানো হবে, যেখানে হাজারো মানুষ একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের আওতায় নিউইয়র্কের পাঁচটি প্রধান স্থানে ফ্যান জোন গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ভেন্যু হলো Rockefeller Center, যা সাধারণত বড় উৎসব ও আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য পরিচিত। এছাড়া Brooklyn Bridge Park-এও খোলা পরিবেশে দর্শকদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে পরিবার ও তরুণরা একসঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
কুইন্স এলাকার Billie Jean King National Tennis Center-এও একটি বড় ফ্যান জোন স্থাপন করা হবে। যদিও এটি মূলত টেনিসের জন্য পরিচিত, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এখানে বিশেষভাবে ফুটবলভিত্তিক আয়োজন করা হবে। একইভাবে ব্রঙ্কস এলাকার Yankee Stadium-এর আশপাশে বড় স্ক্রিন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
স্টেটেন আইল্যান্ডেও একটি বেসবল স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে আলাদা ফ্যান জোন থাকবে, যেখানে দর্শকরা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। আয়োজকদের মতে, এসব স্থানে শুধুমাত্র খেলা দেখানোই নয়, বরং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাবারের স্টল এবং সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করা হবে।
এছাড়া নিউ জার্সির হ্যারিসনে অবস্থিত MetLife Stadium-কে কেন্দ্র করে বিশেষ ফ্যান ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেখানে যাতায়াত এবং টিকিটের খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক দর্শকের জন্য সরাসরি মাঠে খেলা দেখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণে শহরের বিভিন্ন ফ্যান জোনকে বিকল্প উপভোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক দর্শকই স্টেডিয়ামের টিকিট কিনতে না পারলেও যেন তারা বিশ্বকাপের উত্তেজনা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং স্বল্প আয়ের দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে এসব ফ্রি ও স্বল্পমূল্যের আয়োজন করা হচ্ছে।
একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে প্রবেশের জন্য প্রতীকীভাবে ১০ ডলার ফি নির্ধারণ করা হলেও বেশিরভাগ ফ্যান জোনই থাকবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এতে করে শহরের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ একসঙ্গে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের এই আয়োজন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের ফ্যান জোন তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর মাধ্যমে পুরো দেশজুড়ে ফুটবলের একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির MetLife Stadium-এ। কিন্তু সেখানকার উচ্চ খরচ এবং সীমিত আসনের কারণে অনেক দর্শক মাঠে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না। তাই নিউইয়র্ক সিটির এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ফ্যান জোন আয়োজন বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করবে। শুধু স্টেডিয়ামে নয়, বরং পুরো শহরজুড়ে একটি বৈশ্বিক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হবে, যা ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে আরও গভীর করবে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কের এই প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলার রূপ নেবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক শহর যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা শুধু ক্রীড়াপ্রেমীদের নয়, বরং পুরো শহরের মানুষের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে যাচ্ছে। ফুটবল, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার এই সমন্বয় বিশ্বকাপকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।