সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

কোনো নারীই ‘ট্রফি’ হতে চায় না: প্রীতি জিনতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫১ বার
নারী ট্রফি মন্তব্য বিতর্ক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ক্রিকেট দল পাঞ্জাব কিংসের সহ-স্বত্বাধিকারী প্রীতি জিনতা নারীর মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে দেওয়া একটি মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে করা একটি কটূক্তির জবাবে তিনি নারীর অবস্থান, মর্যাদা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আইপিএল চলাকালীন সময়ে মাঠে প্রীতি জিনতার উপস্থিতি প্রায়ই দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দলের জয়-পরাজয়ের প্রতিটি মুহূর্তে তার আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া এবং দলের প্রতি গভীর সম্পৃক্ততা তাকে ক্রিকেট ভক্তদের কাছে একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তাকে পাঞ্জাব কিংসের ‘ট্রফি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ওই মন্তব্যের সরাসরি জবাব দেন প্রীতি জিনতা। তিনি বলেন, এ ধরনের তুলনা প্রথমে প্রশংসার মতো মনে হলেও এর ভেতরে নারীর প্রতি অবমূল্যায়নের একটি দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে। তার মতে, নারীকে কোনোভাবেই বস্তু বা অর্জনের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো নারীই ‘ট্রফি’ নয়, কারণ ট্রফি কেনা যায়, কিন্তু একজন নারীর মর্যাদা কখনোই কেনা-বেচার বিষয় হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ট্রফি সাধারণত কাঁচের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা হয়, যা প্রতীকীভাবে অর্জনের পরিচয় বহন করে। কিন্তু একজন নারী সমাজ, পরিবার এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যাকে কোনোভাবেই প্রদর্শনযোগ্য বস্তু হিসেবে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তার মতে, নারীর প্রকৃত স্থান হলো মানুষের জীবন ও হৃদয়ের মধ্যে, যেখানে সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে তার অবস্থান নির্ধারিত হয়।

প্রীতির এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই তার বক্তব্যকে নারীর অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে শক্ত অবস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে, তিনি শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নন, বরং একজন সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব, যিনি সামাজিক বিষয়েও স্পষ্ট মত প্রকাশ করতে পিছপা হন না।

তবে কিছু অংশে এ নিয়ে ভিন্নমতও দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি অনলাইন মন্তব্যের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী তার বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং নারীর প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে আলোচনার মধ্যেই প্রীতি জিনতা তার পেশাগত জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন সিনেমা ‘লাহোর ১৯৪৭’ নিয়ে তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এ ধরনের পিরিয়ড ড্রামায় কাজ করার আগ্রহ পোষণ করছিলেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া তিনি আরেকটি হালকা মেজাজের চলচ্চিত্র ‘ভাইব’ নিয়েও কথা বলেন। তার ভাষায়, গম্ভীর বিষয়ভিত্তিক ছবির পাশাপাশি বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্রে কাজ করা তাকে ভিন্ন ধরনের আনন্দ দেয় এবং অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

বিনোদন জগতের বাইরে নারীর মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে তার এই স্পষ্ট বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব সমাজে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, তখন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের এ ধরনের মন্তব্য অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।

নারী অধিকার বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, প্রীতি জিনতার বক্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তা বহন করে। নারীদের বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান, যা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতা প্রয়োজন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, জনপ্রিয় তারকারা যখন এ ধরনের বিষয়ে কথা বলেন, তখন তা সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বরা অনেক সময় সামাজিক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেন।

সব মিলিয়ে প্রীতি জিনতার এই মন্তব্য শুধু একটি অনলাইন বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নারীর মর্যাদা, সম্মান এবং সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তার বক্তব্য অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে, আবার কিছু অংশে বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, নারীর প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com