সর্বশেষ :
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে অনিয়ম: জালিয়াতি আর দালাল চক্রে ডুবছে সড়ক নিরাপত্তা

‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার
‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িকতার চেয়েও ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অপরাধের প্রভাব অনেক বেশি প্রকট বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্প্রতি এক বিশেষ ফেসবুক বার্তায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু—সকল সম্প্রদায়ের প্রান্তিক ও ক্ষমতাহীন নাগরিকরাই মূলত ক্ষমতাসীন দল, অসাধু আমলাতান্ত্রিক মহল ও প্রভাবশালীদের জবরদখল ও চাঁদাবাজির প্রধান শিকারে পরিণত হন। এটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক সংকট হিসেবে না দেখে মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত অপরাধ হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই নেতা।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনামল এবং বর্তমান মুক্ত পরিবেশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর এবং আওয়ামী লীগ বিহীন নতুন বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপন করতে পারছেন। তিনি জানান, বিগত ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পরপর যেভাবে কোনো প্রকার বড় বিঘ্ন ছাড়াই উদ্যাপিত হয়েছে, তা দেশের আবহমান ধর্মীয় সম্প্রীতির এক চমৎকার বহিঃপ্রকাশ। একটি নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনের জন্য এই ধরনের সম্প্রীতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দের বার্তা বহন করে বলে তিনি মনে করেন।

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত আওয়ামী আমলে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং তথাকথিত ধর্মীয় উগ্রবাদের মতো বিপজ্জনক উপাদানগুলোকে মূলত ‘স্টেট স্পন্সরড’ বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লালন-পালন করা হতো। তিনি দাবি করেন, পূজার মতো স্পর্শকাতর সময়ে তৎকালীন আওয়ামী সুবিধাভোগী বিভিন্ন অসাধু চক্রকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাবোটাজ বা নাশকতা তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে সেই নাশকতার দায় চাপিয়ে দেওয়া হতো বিরোধী রাজনৈতিক দল বা অন্যান্য সামাজিক পক্ষের ঘাড়ে। এই নোংরা রাজনৈতিক কৌশলের পেছনে দুইটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল; প্রথমত, সাধারণ হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও বিভেদ সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত, দেশ ও বিদেশের দরবারে এই প্রপাগান্ডা ছড়ানো যে আওয়ামী লীগ ব্যতীত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণের জন্য নানা কাল্পনিক গল্প বিক্রি করত। একদিকে দেশের ভেতরের উগ্রবাদের জুজু দেখিয়ে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা হতো, অন্যদিকে সাজানো জংঙ্গিবাদের নাটক আর পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুরের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানো হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগের পলায়নের পর এই সাজানো নাটক ও সহিংস ঘটনাগুলো দেশ থেকে লক্ষণীয়ভাবে উধাও হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে যে এসবের পেছনে কারা আসল কলকাঠি নাড়ত।

বাংলাদেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, অপরাধের ধরণ এবং নিরাপত্তা সংকট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এনসিপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা উল্লেখ করেন যে, সমাজে যে অস্থিরতা, চাঁদাবাজি, অবৈধ জমি দখল এবং নিরাপত্তার অভাব রয়েছে, তা মূলত কোনো সাম্প্রদায়িক বিরোধ নয়। এগুলো নিখাদ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ। সাধারণ হিন্দু কিংবা সাধারণ মুসলমান—উভয়েই সমানভাবে এসব অপরাধের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। যারা ক্ষমতাহীন, তারা বারবার শাসকদলের ক্যাডার, আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতাচর্চা ও স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির দ্বারা হেনস্তা হন এবং তাদের ভূ-সম্পত্তি গ্রাসের শিকার হতে হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, সাবেক শাসকদল আওয়ামী লীগ কখনও এসব অপরাধের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়নি। বরং সিলেক্টিভভাবে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে সামনে এনে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করেছিল। তবে সচেতন রাজনৈতিক সমাজ ও জনগণের সামনে আজ সেই সুবিধাভোগী ও সংখ্যালঘু রাজনীতির মুখরোচক মুখোশ সম্পূর্ণ খসে পড়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বিগত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে তৈরি হওয়া পরিবর্তন ও নতুন পরিবেশের এক প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, গণআন্দোলনের মুখে সাবেক শাসকদল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন ও পলায়নের পর গঠিত নতুন বাংলাদেশে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়হীন, উৎসবমুখর ও স্বাধীন পরিবেশে তাদের স্ব-স্ব ধর্মীয় পরব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট- পরবর্তী সময়ে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পরপর যেভাবে কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও নাশকতা ছাড়াই চরম আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সুসম্পন্ন হয়েছে, তা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অসাধারণ বাস্তব প্রমাণ। নতুন রাষ্ট্র ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক বলে মনে করেন তিনি।

বিগত শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক কৌশল পর্যালোচনা করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে তথাকথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং উগ্রবাদের যে গল্প শোনানো হতো, তা মূলত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা ‘স্টেট স্পন্সরড’ উপায়ে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হতো। তিনি অভিযোগ তোলেন, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের মৌসুমে শাসকদলের সুবিধাভোগী অসাধু গোষ্ঠীগুলোকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মণ্ডপে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানো হতো এবং পরবর্তীতে চতুরতার সঙ্গে তার পুরো দায় চাপিয়ে দেওয়া হতো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি কিংবা অপরাপর মহলের ওপর। এই পরিকল্পিত নাটকের পেছনে প্রধানত দুটি নোংরা উদ্দেশ্য কাজ করত; একদিকে সাধারণ হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ফাটল ও স্থায়ী বিভেদ তৈরি করা, আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করা যেন আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো নিরাপত্তা নেই।

তিনি আরও যোগ করেন, দেশে ও বিদেশে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার বাসনায় বিগত সরকার নানা ধরনের কাল্পনিক ন্যারেটিভ বিক্রি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে ভিত্তিহীন গল্প ছড়ানো হতো যে, বাংলাদেশে কথিত উগ্রবাদের উত্থান ঘটে দেশটি দ্বিতীয় আফগানিস্তানে পরিণত হতে পারে। আবার অন্যদিকে দেশের ভেতরে উগ্রবাদের ভূতুড়ে জুজু দেখাতে তারা একদিকে সাজাত জঙ্গিবাদের নাটক, আর অন্যদিকে রাতের আঁধারে চলত প্রতিমা ভাঙচুরের মতো জঘন্য কাজ। অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো, ৫ আগস্টের স্বৈরাচারী পতনের সঙ্গে সঙ্গেই এই কৃত্রিমভাবে সাজানো জঘন্য ঘটনাগুলো পুরো দেশ থেকে রহস্যজনকভাবে একেবারে উধাও হয়ে গেছে। এটিই স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রমাণ করে যে, এতদিন ধরে এই ধরনের স্পর্শকাতর সামাজিক অস্থিরতার পেছনে কার কলকাঠি ও রাজনৈতিক ইন্ধন কাজ করছিল।

বাংলাদেশের সার্বিক অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের সমাজ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ভয়, অনিশ্চয়তা, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক ব্যবসা বা জমি দখলের ঘটনা ঘটে, তা আদতে কোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়। এগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপরাধ। সাধারণ একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিক কিংবা সাধারণ একজন মুসলিম নাগরিক—উভয়েই মূলত একই ধরনের অপরাধ ও অন্যায়ের ভুক্তভোগী। সমাজের দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন শ্রেণিই সবসময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শাসক দলের ক্যাডারবাহিনী ও স্থানীয় মাস্তানদের ক্ষমতা প্রদর্শনের কবলে পড়ে তাদের নিজেদের মাথার ওপরের ছাদ কিংবা ভূ-সম্পত্তি হারায়।

স্থায়ী সমাধানের পথ নির্দেশ করে তিনি অভিমত দেন যে, অপরাধীকে তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় না দেখে সরাসরি বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের আইনশৃঙ্খলাজনিত সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও অনাস্থার বিষবাষ্প খুব দ্রুতই বিলীন হয়ে যাবে। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির সুন্দর বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই অর্জনই হলো জুলাই বিপ্লবের মূল প্রেরণা ও সবচেয়ে বড় সাফল্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com