অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ সিলেটবাসী, বিদ্যুৎ বিভাগের ফোনেও মিলছে না সাড়া

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৮ বার

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটজুড়ে অসহনীয় গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন দুর্ভোগকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

বিশেষ করে দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বারবার আসা-যাওয়ার কারণে ঘরে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি হাসপাতালগুলোতেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। অসুস্থ রোগীরা গরমে আরও বিপাকে পড়ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব।

এ অবস্থায় ভরসা ছিল সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের হটলাইন। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া মিলছে না। নগরীর উপশহর, আম্বরখানা, দক্ষিণ সুরমা, টিলাগড়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিভাগীয় হটলাইনে ফোন করে সহযোগিতা চাওয়া হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেন না। কারও কারও ভাষায়, “এ যেন অন্ধকারে নিঃশব্দ আর্তনাদ—কেউ শুনছে না, দেখছেও না।”

মঙ্গলবার বিকেলে উপশহর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে লোডশেডিং চলছে। দুপুরের পর একটানা তিনবার বিদ্যুৎ গেছে। ফোন করেও বিদ্যুৎ অফিসে কাউকে পাওয়া যায়নি। এই গরমে ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।”

টিলাগড় এলাকার গৃহবধূ আয়েশা আক্তার বলেন, “একদিকে গরম, আরেকদিকে ফ্রিজ, ফ্যান কিছুই চলছে না। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে শুধু ব্যস্ত সিগন্যাল আসে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেটে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়সারা মনোভাব মিলিয়ে দুর্ভোগ আরও গভীর হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সঞ্চালন লাইনে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে লোডশেডিং কিছু এলাকায় বেশি হচ্ছে। তবে হটলাইনে সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

সিলেটবাসী এখন আশায় রয়েছেন—প্রকৃতির কিছু দয়া আর প্রশাসনের কিছু আন্তরিকতা যদি এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এনে দেয়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত