পশ্চিমবঙ্গ ভোটে উত্তেজনা, সংঘর্ষের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ বার
পশ্চিমবঙ্গে ইভিএম ত্রুটির অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। বুধবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ইভিএম ত্রুটির অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এ দফার ভোটে কলকাতার ভবানীপুর আসন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, যেখানে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভোট শুরুর পর থেকেই দুই শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।

ভোটগ্রহণের প্রথম দিকেই চাঁপড়া, শান্তিপুর এবং ভাঙড়সহ একাধিক এলাকায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ত্রুটি এবং ভোট পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীরা। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, এন্টালি কেন্দ্রের একটি ভোটকেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা তিব্রেওয়াল ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরাসরি ভোটকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তার অভিযোগ ছিল, দলের এজেন্টকে অন্যায়ভাবে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ওই এজেন্টকে বাইরে যেতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে উভয় পক্ষকে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর প্রিয়াঙ্কা তিব্রেওয়াল অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্যক্তিকে প্রবেশ করিয়ে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

অন্যদিকে নদিয়ার চাঁপড়া এলাকায় একটি বুথে বিজেপির এক এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি অনুযায়ী, ওই এজেন্ট মোশারেফ মীর ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে কিছু ব্যক্তির হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকার এ ঘটনার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে এবং প্রকৃতপক্ষে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেনি।

ভোটগ্রহণের শুরুতেই একাধিক স্থানে এমন সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সেখানে ভোটার উপস্থিতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে এবারের দ্বিতীয় দফায় যেভাবে ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক সংঘর্ষ ও অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে ইভিএম ত্রুটি ও ভোটকেন্দ্র ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ভোটের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ভোটের সময় এই ধরনের উত্তেজনা নতুন কিছু নয়, তবে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। আবার অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভোট যদি সহিংসতার মধ্যে পড়ে যায়, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট একদিকে রাজনৈতিক শক্তির লড়াই, অন্যদিকে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। ভোটগ্রহণ চলমান থাকায় পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোট শেষে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে, তবে আপাতত রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত