লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৮ জন নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯ বার
ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৮

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমছে না। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবারের এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকসহ উদ্ধারকর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হতাহতের শিকার হয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জোউন শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রথম দফায় পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তিনজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন। তারা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ করছিলেন, এমন সময় দ্বিতীয় দফা হামলা হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে জেবচিত শহরে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন বলে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। একই দিনে জুয়াইয়া শহরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু এবং পাঁচজন নারী রয়েছেন। ফলে একদিনেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটে।

লেবাননের সেনাবাহিনীও এই হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে। একটি টহলদলের ওপর ইসরাইলি হামলায় তাদের দুই সদস্য আহত হন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি বড় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে, যা সংগঠনটির বিশেষ প্রশিক্ষিত যোদ্ধারা ব্যবহার করত। তাদের ভাষ্যমতে, এই অবকাঠামোটি সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এটি লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা বিষয়ক কনভেনশন লঙ্ঘন করছে। তার মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ ধরনের হামলা শান্তি প্রক্রিয়াকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে উত্তরের দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছাড়তে শুরু করে।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার দাবি করেছেন, তাদের লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের উদ্দেশ্য নেই। তার মতে, হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করা হলে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাবে। তবে এই বক্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরই লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা মূলত নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার আরও কয়েকটি ঘটনায় ইসরাইলি সেনারা আকাশে সন্দেহজনক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। তবে সেগুলো কী ছিল, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে, যা কাছাকাছি বিস্ফোরিত হলেও কোনো বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগের দিন একই ধরনের ড্রোন হামলায় ইসরাইলি বাহিনীর একজন সেনা গুরুতর আহত এবং আরেকজন সামান্য আহত হন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত হামলা-পাল্টা হামলার কারণে বেসামরিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক এলাকায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। উদ্ধারকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শান্তি এখনও অনেক দূরের বিষয়। বেসামরিক মানুষের জীবন, নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত