লন্ডন উৎসবে প্রিয়াম অর্চির দুই সিনেমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ বার
প্রিয়াম অর্চি সিনেমা লন্ডন উৎসব

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা এখন নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে নিজেদের কাজ তুলে ধরছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লন্ডনের একটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে অভিনেতা প্রিয়াম অর্চি অভিনীত দুটি সিনেমা—‘নির্বাণ’ ও ‘দি আনএক্সপেক্টেড’।

লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত এই দুটি চলচ্চিত্র ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাঙালি দর্শক এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। উৎসব সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য ও নতুন ভাষ্য তুলে ধরতেই এবারের আয়োজনে এই দুটি সিনেমা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রিয়াম অর্চি অভিনীত ‘নির্বাণ’ চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে। মস্কো ও ইউরেশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে এটি জুরি পুরস্কার অর্জন করে আলোচনায় আসে। এবার এটি লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়েছে। সেন্ট্রাল লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ব্লক সিনেমা হলে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে ছবিটি উপস্থাপন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াম অর্চিও।

অন্যদিকে, একই অভিনেতার অভিনীত ‘দি আনএক্সপেক্টেড’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে লন্ডনকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে। সিনেমাটি গত বছর শিকাগো সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইউএস প্রিমিয়ার করেছিল। এবার এটি আগামী ৩ মে ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রদর্শনী এই চলচ্চিত্রটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া প্রিয়াম অর্চি অভিনীত আরও একটি চলচ্চিত্র ‘দেশলাই’ বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। চলচ্চিত্রটি ঘিরেও দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘নির্বাণ’-এর প্রদর্শনী নিয়ে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে প্রিয়াম অর্চি বলেন, প্রদর্শনীটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তবে দর্শক উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তার মতে, এটি একটি নতুন উৎসব হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক বাড়বে। তিনি আরও জানান, প্রদর্শনী শেষে কিছু অর্থবহ প্রশ্ন পেয়েছেন, যা তার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, কারণ এটি চলচ্চিত্রটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ ও চিন্তার প্রতিফলন।

অভিনয়জীবনে প্রিয়াম অর্চি নিজেকে ভিন্নধর্মী ও বেছে নেওয়া কাজের মাধ্যমে আলাদা অবস্থানে রেখেছেন। টেলিভিশন, ওয়েব কনটেন্ট এবং চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই তিনি কাজ করেছেন, তবে সংখ্যার চেয়ে মানসম্পন্ন কাজকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তার মতে, প্রতিটি চরিত্র ও গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়াই একজন শিল্পীর আসল দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক উৎসবে তার কাজ প্রদর্শিত হওয়াকে তিনি নিজের জন্য একটি দীর্ঘ যাত্রার অংশ হিসেবে দেখেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীকে সময় নিয়ে নিজের চরিত্র ও গল্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, যা অভিনয়কে আরও বাস্তব ও প্রভাবশালী করে তোলে।

বাংলাদেশের স্বাধীন ও বিকল্পধারার সিনেমা প্রসঙ্গে প্রিয়াম অর্চি মনে করেন, এই ধারার চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত কাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা। তার মতে, বাংলাদেশে এখনো সেই কাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি, ফলে এ ধরনের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বিস্তার কিছুটা সীমিত থাকে।

তিনি আরও বলেন, বিকল্পধারার দর্শকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি। এতে নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে এবং এই ধারা আরও শক্তিশালী হবে। অন্যথায় ধীরে ধীরে এ ধরনের সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা কমে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস নিয়েও তিনি সচেতনভাবে কাজ করেন বলে জানান। শুধু অভিনয় নয়, বিভিন্ন দেশের সিনেমা দেখে তা বিশ্লেষণ করাকে তিনি নিজের শেখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখেন। এতে তার অভিনয় দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ হয় বলে তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি তিনি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। একটি এক্সপেরিমেন্টাল স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজকের দায়িত্বও পালন করছেন। ঢাকায় গত বছর শুটিং সম্পন্ন হওয়া এই চলচ্চিত্রটি বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের পর্যায়ে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এটি যেকোনো শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। একই সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সমান সুযোগের পরিবেশ সৃজনশীল কাজের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে তিনি মনে করেন।

সব মিলিয়ে প্রিয়াম অর্চির এই আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনের উৎসবে তার দুটি সিনেমার প্রদর্শনী শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রারও একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত