কৃষ্ণ সাগরে চীনা জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ২ বার
কৃষ্ণ সাগরে চীনা কার্গো জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কৃষ্ণ সাগরে একটি চীনা মালিকানাধীন কার্গো জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, সোমবার রাতে ওডেসা অঞ্চলের কাছাকাছি সমুদ্রপথে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়। ঘটনাটি ঘটে সেই সময়, যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রাশিয়ার ড্রোন হামলার সময় একটি চীনা মালিকানাধীন জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে কোন জাহাজ চলাচল করছে তা রাশিয়ার অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই, ফলে এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

ইউক্রেনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজে থাকা সব ক্রু সদস্য চীনের নাগরিক ছিলেন এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন। প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরেও জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।

জাহাজটির নাম “কেএসএল দেয়াং” বলে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে। প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, জাহাজের উপরের অংশে আগুনে পোড়া দাগ ও ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে, যা হামলার তীব্রতাকে ইঙ্গিত করে।

এই ঘটনার পাশাপাশি ইউক্রেন আরও দাবি করেছে যে একই রাতে রাশিয়া ব্যাপক মাত্রায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫২৪টি ড্রোন এবং ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ মিসাইলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব হামলা মূলত বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

Ukraine এবং Russia এর মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে বারবার সামরিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক নৌপথে হামলার অভিযোগ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

Black Sea অঞ্চলটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত। এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউক্রেনের অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ থাকবে। বিশেষ করে নিরপেক্ষ দেশগুলোর মালিকানাধীন জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও এখনো পর্যন্ত সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজেকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। তবে এই ঘটনায় চীনা মালিকানাধীন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা শুধু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক এবং কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এর আগে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি নিরাপদ করতে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে রাশিয়া সেই চুক্তি থেকে সরে আসে, যার ফলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌচলাচল আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আবারও সংঘাত কমানোর এবং বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা দ্রুত কমার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে কৃষ্ণ সাগরে চীনা জাহাজে ড্রোন হামলার এই অভিযোগ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এটি শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত