মাদারীপুর হাটে বড় গরুর দাপট, ভিড় ক্রেতাদের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ২ বার
মাদারীপুর হাটে বড় গরুর দাপট, ভিড় ক্রেতাদের

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাদারীপুরের পশুর হাটগুলোতে এখন জমে উঠেছে বেচাকেনার উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার অন্যতম বৃহৎ হবিগঞ্জ পশুরহাটে প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। খামার থেকে ছোট ছোট পিকআপে করে আনা গরুগুলোর মধ্যে ‘রাজাবাবু’, ‘রাজকুমার’, ‘মহব্বত’, ‘নবাব’ ও ‘শাহাজাদা’ নামের গরুগুলো ক্রেতাদের বিশেষ নজর কাড়ছে।

হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার এই হাটটি এখন কোরবানির পশু বেচাকেনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচা চলতে থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারিরা তাদের গরু-ছাগল নিয়ে হাটে উপস্থিত হচ্ছেন, আর ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু নির্বাচন করছেন।

হাটের পরিবেশে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বড় আকারের ও ব্যতিক্রমী নামের গরুগুলো। খামারিরা জানান, গরুর নামকরণে তারা অনেক সময় আবেগ, ভালোবাসা ও আকর্ষণ যোগ করার চেষ্টা করেন, যাতে ক্রেতাদের দৃষ্টি সহজে আকৃষ্ট হয়। আর সেই কৌশল এবার বেশ সফলও হয়েছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম থেকে আসা খামারি মিরাজ খাঁ এবার হবিগঞ্জ পশুরহাটে এনেছেন ২৭টি গবাদি পশু। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একটি ১৮ মণ ওজনের হোলস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়, যাকে তিনি চার বছর ধরে লালন-পালন করেছেন। ‘রাজাবাবু’ নামে পরিচিত এই বিশাল গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত, যদিও ক্রেতারা এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি দর উঠিয়েছে।

খামারি মিরাজ খাঁ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যত্ন করে বড় করা এই গরুটি হাটে সবচেয়ে বেশি মানুষের নজর কাড়ছে। প্রতিদিনই অনেক ক্রেতা এসে দেখছেন এবং দরদাম করছেন। তিনি আশা করছেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই সন্তোষজনক দামে গরুটি বিক্রি হয়ে যাবে। তবে তিনি জানান, যদি ৬ লাখ টাকার একটু বেশি পাওয়া যায়, তাহলে বিক্রি করে দেবেন।

মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারাও হাটের পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আলম রুবেল জানান, তিনি হাটে ১০ থেকে ১৫টি গরু দেখে দরদাম করে শেষ পর্যন্ত একটি গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন। তার মতে, এবারের হাটে পশুর দাম তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে থাকায় সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তিতে আছেন।

তিনি বলেন, “প্রতিবার কোরবানির আগে দামের একটা চাপ থাকে, কিন্তু এবার অনেক খামারি বাস্তবসম্মত দাম চাইছেন। তাই আমরা সহজেই কিনতে পারছি।”

হবিগঞ্জ পশুরহাটের সাধারণ সম্পাদক রুহুল মিয়া জানান, এটি জেলার অন্যতম বড় পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা, পানীয় জল, অস্থায়ী বিশ্রামস্থলসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাট ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি চলছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর জেলায় পশুর চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। জেলায় মোট চাহিদা প্রায় ৬৬ হাজার ৮৮০ পশু হলেও প্রস্তুত রয়েছে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু। ফলে স্থানীয়ভাবে পশুর ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, জেলার প্রায় অর্ধশত হাটে ১৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব টিম পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি হাটে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে ক্রেতারা নিরাপদ ও সুস্থ পশু কিনতে পারেন এবং খামারিরা ন্যায্য মূল্য পান।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হাট এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, জাল টাকা প্রতিরোধ ও প্রতারণা ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে সদস্যরা কাজ করছেন। পাশাপাশি মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের দমনেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে খামারিরা নিরাপদে পশু পরিবহন ও বিক্রয় সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরতে পারেন।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভিড় করছেন পশুগুলো দেখতে। বড় আকারের ও আকর্ষণীয় নামের গরুগুলো শিশু ও তরুণদের কাছে বিশেষ কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করছেন।

সব মিলিয়ে মাদারীপুরের হবিগঞ্জ পশুরহাট এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। পশু বেচাকেনার পাশাপাশি এখানে তৈরি হয়েছে এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য। খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মিলনমেলায় পুরো এলাকা এখন কোরবানির ঈদের আগাম আবহে ভরে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত