রাজশাহীতে ১২৩৭ পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন ঈদ উপহার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
রাজশাহীতে ১২৩৭ পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন ঈদ উপহার

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১ হাজার ২৩৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত এই কর্মীদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়, যা ঈদের আগে তাদের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের গ্রীন প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাসিক প্রশাসক Mahfuzur Rahman Riton। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহারের অর্থ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ এই সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নগর পরিচ্ছন্নতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবারও লক্ষ্য নিয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরীকে পরিচ্ছন্ন করে তোলার। তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই রাজশাহী আজ দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রাজশাহী ‘গ্রিন সিটি’ ও ‘হেলদি সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা এই কর্মীদের শ্রম ও নিষ্ঠার ফল।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক আরও একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় নিয়োজিত ফুল ও গাছের পরিচর্যাকারীদেরও এই ধরনের অনুদানের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তার মতে, রাজশাহীর ‘ফুলের শহর’ পরিচিতি ধরে রাখতে এই শ্রেণির কর্মীদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা জানান, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক জনসেবামূলক কার্যক্রম। ঈদের সময় এই কাজ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তখন বর্জ্যের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।

রাসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনেক কর্মী জানান, ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে, যা পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনকে আরও সহজ করবে।

স্থানীয়রা বলছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রায়শই অগোচরে থাকা একটি কাজ করেন। তাই সরকারের এই ধরনের উদ্যোগ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোরবানির পরপরই দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা যায়।

সব মিলিয়ে ঈদের আগে এই আর্থিক সহায়তা শুধু একটি অনুদান নয়, বরং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে যেমন উৎসাহ বাড়বে, তেমনি নগর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে আরও গতি আসবে বলে আশা করছে সিটি করপোরেশন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত