সর্বশেষ :
ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১০ ইসলামের দৃষ্টিতে জাহান্নামিদের প্রধান তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বললেন ট্রাম্প, লেবানন ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি বাবার ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল মতিঝিল হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা, এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ী হতে চলেছে আবি আহমেদের দল হিলি স্থলবন্দরের ফোরলেন সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর আশ্বাস এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় বাড়ল গাজা সংকট: মধ্যস্থতায় অচলাবস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মোড়

হিলি স্থলবন্দরের ফোরলেন সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর আশ্বাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১ বার
হিলি স্থলবন্দরের ফোরলেন সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর আশ্বাস

প্রকাশ: ২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিলি স্থলবন্দর। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এবং শত শত পণ্যবাহী ট্রাকের আনাগোনা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই ব্যস্ততম স্থলবন্দরের চারমাথা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা স্থানীয় মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফোরলেন সড়কের নির্মাণকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছিল। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই ভোগান্তি লাঘবের আশার বাণী শুনিয়েছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব দ্রুতই এই সড়কের কাজ আবার শুরু হতে যাচ্ছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, হিলি স্থলবন্দরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিনের যে ভোগান্তি তা তার অগোচরে নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইতিমধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণ এবং ফোরলেন নির্মাণের প্রয়োজনীয় অর্থ দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। এই অর্থছাড় হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নেবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।

সরেজমিনে হিলি স্থলবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারমাথা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সড়কের কার্পেটিং বহু আগেই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই গর্তগুলো যেন ছোটখাটো জলাশয়ে পরিণত হয়। পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সময় ধুলোবালি আর কাদা মিলে একাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। এই এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের হিমশিম খেতে হয়। রিকশাচালক আব্দুল মতিনের দীর্ঘশ্বাস যেন হিলির অগণিত মানুষের হৃদয়ের কথা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জন্মের পর থেকেই শুনে আসছেন রাস্তা হবে, কিন্তু তা দেখার ভাগ্য যেন তাদের আর হচ্ছে না। বিগত ১৭ বছরেও যে ছোট এই কাজটি শেষ করতে পারেনি বিগত সরকার, তা নিয়ে ক্ষোভের সীমা নেই তার। ঠিকাদারদের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই রাস্তার উন্নয়নকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ট্রাকচালক সেকেন্দার আলীর মতো স্থানীয় পেশাজীবীরা মনে করেন, হিলি স্থলবন্দর সরকার এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব যোগান দিচ্ছে, অথচ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলটি যেন বরাবরই অবহেলিত। দেশের অন্যান্য প্রান্তের উন্নয়ন যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন হিলির এই এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ থমকে থাকা যেন একটি বড় ধরনের বৈষম্য। তারা বারবার আশ্বাসের বাণী শুনতে শুনতে ক্লান্ত। তারা এখন আর কোনো আশ্বাস শুনতে চান না, বরং দ্রুত কাজের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে আগ্রহী। তাদের মতে, সড়কটি ফোরলেনে উন্নীত হলে হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্যে নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং সামগ্রিকভাবে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এই প্রকল্পটির বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, হিলি জিরো পয়েন্ট টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে স্থলবন্দরের চারমাথা হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত করার জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া সড়কটি প্রশস্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এই বাজেটের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিদিন অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাস্তা খারাপ থাকার কারণে বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পণ্যমূল্যের ওপর।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ডিসি অফিসে অর্থ চলে আসার খবরটি স্থানীয়দের কাছে একটি বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা যেহেতু তিক্ত, তাই তারা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দ্রুত ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা যেন উন্নয়ন প্রকল্পকে আর বাধাগ্রস্ত না করে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। রাস্তাটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এবং ঠিকাদারদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এটি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পরিশেষে বলা যায়, হিলি স্থলবন্দর কেবল একটি বন্দর নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই বন্দরের সাথে জড়িয়ে আছে স্থানীয় শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষগুলো এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন কবে বুলডোজার আর শ্রমিকদের ব্যস্ততায় এই রাস্তাটি নতুন রূপ পাবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর ঘোষণা যেন কেবল মৌখিক আশ্বাসের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবে রূপান্তরিত হয়, সেটাই এখন পুরো হিলিবাসীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রধান দাবি। উন্নয়নের এই গতিশীলতায় হিলি স্থলবন্দর যেন তার হৃত গৌরব ফিরে পায় এবং অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়, সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনছে সাধারণ মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত