প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বসংগীতের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম টেইলর সুইফট। তার প্রতিটি পদক্ষেপেই থাকে চমক, আর সুরের মূর্ছনায় তিনি মাতোয়ারা করে রাখেন কোটি ভক্তকে। এবার আবারও এক অভূতপূর্ব খবর নিয়ে সামনে এলেন এই পপ সম্রাজ্ঞী। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি ৫’-এর জন্য একটি মৌলিক গান গেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার এক বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে টেইলর সুইফট নিজেই এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। ডিজনি ও পিক্সারের এই যৌথ আয়োজনে সুইফটের অংশগ্রহণ সংগীতপ্রেমীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ শিরোনামের এই বিশেষ গানটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার। এই গানের মাধ্যমেই টেইলর সুইফট দীর্ঘ বিরতির পর তার সংগীত জীবনের শুরুর দিকের সেই আদি ও অকৃত্রিম রূপ, অর্থাৎ কান্ট্রি মিউজিকে ফিরে আসছেন। এই প্রত্যাবর্তনের খবরটি জানার পর থেকেই সুইফটের ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আনন্দ প্রকাশ করছেন। কারণ সুইফটের কণ্ঠের কান্ট্রি মিউজিক মানেই যেন এক নস্টালজিয়া, যা তার শুরুর দিকের ক্যারিয়ারকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজনি জানিয়েছে, এই গানটি তৈরির ক্ষেত্রে সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র কাউগার্ল ‘জেসি’-র জীবন ও তার সংগ্রামের গল্পকে মূল প্রেরণা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
গানটির নেপথ্যে রয়েছেন সুইফট ও তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল সহযোগী জ্যাক অ্যান্টনফ। তারা যৌথভাবে এই গানটি রচনা এবং প্রযোজনা করেছেন। টেইলর সুইফট তার ভক্তদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন যে, পাঁচ বছর বয়স থেকেই তিনি ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের চরিত্রগুলোর প্রতি এক গভীর টান অনুভব করতেন। সেই ছোটবেলায় প্রথম সিনেমাটি দেখার পর থেকেই তার মনে একটি সুপ্ত স্বপ্ন ছিল—একদিন এই কালজয়ী সিনেমার কোনো চরিত্রের জন্য একটি গান লিখবেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ার শেষে সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবের আলো দেখতে যাচ্ছে। তিনি জানান, এই চরিত্রগুলোর সাথে যেন তিনি বড় হয়েছেন এবং ‘জেসি’-র চরিত্রটি তার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি।
সিনেমাটির পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যানটন গানটি সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যখন প্রথমবারের মতো গানটি শোনা হয়, তখনই মনে হয়েছিল এটি যেন সৃষ্টির শুরু থেকেই ‘টয় স্টোরি’র একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গানটি সিনেমার আবহ ও গল্পের সাথে এত নিপুণভাবে মিশে গেছে যে, তা আলাদা করে দেখার কোনো উপায় নেই। সুইফটের কণ্ঠের জাদু এই গানটিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে গানটি নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। সুইফটের অফিশিয়াল ওয়েবস্টোরে সিডি সিঙ্গেল হিসেবে এই গানের অগ্রিম বুকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মূল গানের পাশাপাশি এই সিডি সিঙ্গলে গানটির বিশেষ অ্যাকুস্টিক ও পিয়ানো সংস্করণও থাকছে।
পিক্সার ও ডিজনির ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী এক বিশাল প্রত্যাশার নাম। আগামী ১৯ জুন সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। টয় স্টোরি সিরিজের প্রতিটি সিনেমা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে, আর এবার সুইফটের সংগীতের সংযোজন ছবিটির আবেদনকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। কান্ট্রি মিউজিকে সুইফটের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন সংগীতশিল্পীর ফেরা নয়, বরং এটি তার সংগীত দর্শনের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন। তিনি সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আধুনিক পপ মিউজিকে মানিয়ে নিলেও, নিজের শেকড়কে কখনোই ভুলে যাননি। ‘আই নিউ ইট, আই নিউ ইউ’ শিরোনামের গানটির মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করতে যাচ্ছেন যে, কান্ট্রি ঘরানার সুর তার কণ্ঠে কতটা জীবন্ত ও প্রাণবন্ত।
এই ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন সংগীত প্ল্যাটফর্মে সুইফটের পুরোনো কান্ট্রি গানগুলোর স্ট্রিমিং বেড়ে গেছে। ভক্তরা মনে করছেন, সুইফটের এই নতুন গানটি শুধু সিনেমার জনপ্রিয়তাকেই ত্বরান্বিত করবে না, বরং কান্ট্রি মিউজিকের আধুনিক ধারায় এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সিনেমার গল্পে ‘জেসি’-র সেই অদম্য জেদ ও সাহসিকতার সাথে সুইফটের কণ্ঠের মিল কতটা নিবিড়, তা জানার জন্য ১৯ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। তবে তার আগেই শুক্রবারের এই মুক্তি যেন সংগীত জগতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত হতে চলেছে।
পরিশেষে বলা যায়, টেইলর সুইফটের এই নতুন যাত্রা যেমন একদিকে তার ব্যক্তিগত স্বপ্নের বাস্তবায়ন, তেমনি অন্যদিকে এটি তার সংগীতের বহুমাত্রিকতার এক অনন্য নজির। এক পপ আইকন থেকে কান্ট্রি মিউজিকের চেনা ছন্দে ফিরে আসা এবং তা আবার সিনেমার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা—এই সাহস কেবল সুইফটের পক্ষেই দেখানো সম্ভব। ‘টয় স্টোরি ৫’-এর পর্দায় যখন জেসি-র অভিযাত্রার সাথে সুইফটের কণ্ঠ মিশে যাবে, তখন তা নিঃসন্দেহে দর্শকদের হৃদয়ে এক অন্যরকম শিহরণ জাগাবে। সংগীতপ্রেমী ও সিনেমা ভক্তরা এখন শুক্রবারের সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় দিন গুনছেন, যখন কান্ট্রি মিউজিকের সেই চিরাচরিত সুর আবারও ঢেউ তুলবে বিশ্বজুড়ে।