সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় বড় চমক: ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৪৫ বার
বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় বড় চমক: ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে স্বস্তি

প্রকাশ:  ২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। আসন্ন বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় খাতে কাজের পরিধি ব্যাপক হারে বাড়ানো হবে। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মশালায় মন্ত্রী যখন এই পরিকল্পনার কথা জানান, তখন উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য সরকারি অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক বিশাল স্বস্তির বিষয়। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীরা প্রায়শই চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, মানবিক বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া এতিম শিশুদের শুধুমাত্র আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েই সরকার দায়িত্ব শেষ করতে চায় না। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি কেবল সামাজিক সহায়তা নয়, বরং একটি বিনিয়োগ, যা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ায় ভূমিকা রাখবে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দর্শনগুলো এখন জাতীয় দায়িত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডা. জাহিদ। তিনি জানান, আগামী বছরে প্রায় ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা বাজারের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবিলায় তাদের বড় ধরনের সুরক্ষা দেবে। এছাড়া কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির কাজও আগামী দিনে ব্যাপকতা পাবে। ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনাটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন কর্মশালায় বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দৃশ্যমান। নতুন কর্মপরিকল্পনায় এই সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা এবং সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির পথ বন্ধ করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হবে। মূলত মন্ত্রণালয় এখন থেকে লক্ষ্যভিত্তিক কাজের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যেখানে সেবার ধরণ হবে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত।

সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। বাজেট প্রণয়নের সময় প্রতিটি খাতের চাহিদাকে সুনিপুণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যাতে কোনো অংশই অবহেলিত না থাকে। ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষক কার্ডের সফল বাস্তবায়নের ওপর সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন অসম্ভব। একইভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজকল্যাণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনাটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া, নারীর অধিকার রক্ষা এবং শিশুদের সুরক্ষার কাজগুলো অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

আসন্ন বাজেটে যে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক খাতের এই উন্নয়ন প্রচেষ্টা সাধারণ জনগণের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি শুধুমাত্র টাকার অংকে বরাদ্দ বাড়ানো নয়, বরং একটি সমন্বিত পরিকল্পনা যার মূল লক্ষ্য হলো বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। সরকারের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা যদি নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে আগামী বছরে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবার நேரடியாக উপকৃত হবে। এটি দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য বিমোচনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর কথার সুর ছিল একই—সেবা পৌঁছে দিতে হবে একেবারে তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায়। এর জন্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অপরিহার্য। দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অঙ্গীকার নিয়ে সরকার যে পথ চলতে শুরু করেছে, তা আসন্ন বাজেটের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা থাকবে, সরকারের এই মহৎ উদ্যোগগুলো যেন কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না পড়ে। বাজেট যখন সাধারণ মানুষের জীবনকে স্পর্শ করে, তখনই সেই বাজেট প্রকৃত অর্থে সফল বলে গণ্য হয়। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সাহসী পদক্ষেপগুলো সেই সাফল্যের যাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত