সর্বশেষ :

সিআইডির নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার
সিআইডির নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান

প্রকাশ: ২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষায়িত শাখা অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির নেতৃত্বভার গ্রহণ করেছেন পুলিশের চৌকস কর্মকর্তা ডিআইজি আলি আকবর খান। সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধানের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই কর্মকর্তার কাঁধে সিআইডির মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অর্পণ করায় পুলিশ মহলে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধ দমনে সিআইডির যে মূল ভূমিকা, তা নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল প্রত্যাশা করছে।

আলি আকবর খানের জীবন ও কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণিল ও দায়িত্বশীলতায় পরিপূর্ণ। তিনি ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের মধ্য দিয়ে দেশ সেবার ব্রত গ্রহণ করেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব ইউনিটে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি শুধু মাঠ পর্যায়ের পুলিশিং নয়, বরং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও রেখেছেন নিজের মেধার স্বাক্ষর। বিশেষ করে রেঞ্জ পুলিশ, পুলিশ অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন দূরদর্শী কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

একজন নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আলি আকবর খান নিয়মিত নিজেকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাকে অপরাধ বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণগুলো বুঝতে এবং অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে। সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক জালিয়াতি—সবকিছুই এখন ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমন পরিস্থিতিতে আলি আকবর খানের মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তার নেতৃত্ব সিআইডির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সিআইডির মতো একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়া মানে হলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার একটি বড় অংশকে নিয়ন্ত্রণ করা। সিআইডি দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত জটিল মামলার তদন্তে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী হয়ে উঠবে—এটাই সবার কাম্য। প্রজ্ঞাপনের পরপরই সিআইডি পরিবারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সিআইডি সংশ্লিষ্ট সদস্যরা মনে করছেন, তার পেশাদারিত্ব, অটল নেতৃত্ব এবং দূরদৃষ্টি সিআইডির চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। জনমনে আস্থা বৃদ্ধি করতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার যে অঙ্গীকার সিআইডি করেছে, তা তার নেতৃত্বেই পূর্ণতা পাবে বলে আশা করছেন সবাই।

পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এই ধরনের রদবদল একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, সিআইডির ক্ষেত্রে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, সিআইডি কেবল সাধারণ অপরাধ তদন্ত করে না, বরং দেশের চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলাগুলোর তদন্তভারও এই প্রতিষ্ঠানের ওপরই থাকে। ডিআইজি আলি আকবর খানের মতো ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে তার মানবিকতা ও সততার যে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, তা তাকে সহকর্মী ও অধস্তনদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছেন, তা হলো তদন্তের গতি বাড়ানো এবং মামলার রহস্য উন্মোচনে বিলম্ব কমানো। সিআইডির প্রতিটি সদস্য এখন একটি নতুন ভিশন নিয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য প্রস্তুত।

আলি আকবর খানের দীর্ঘ কর্মজীবন একটি অনুপ্রেরণার গল্প। চাঁদপুর থেকে শুরু করে সারা দেশে তার কর্মতৎপরতা তাকে একজন জনপ্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। তার সহকর্মীরা তাকে একজন কঠোর পরিশ্রমী এবং নিয়মনিষ্ঠ মানুষ হিসেবেই চেনেন। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তার ক্যারিয়ারের মূলমন্ত্র। এখন থেকে তিনি যখন সিআইডির কর্ণধার হিসেবে কাজ শুরু করছেন, তখন মানুষের প্রত্যাশার পারদও বেশ উঁচুতেই থাকবে। বিশেষ করে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উন্নয়ন এবং তদন্তের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করবেন দেশের সচেতন নাগরিকরা।

পরিশেষে বলা যায়, সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে আলি আকবর খানের এই যাত্রা কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের আরেকটি পালক নয়, বরং এটি তার ওপর অর্পিত একটি জাতীয় দায়িত্ব। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো আগামী দিনের পুলিশিংয়ের জন্য নতুন পথ প্রদর্শন করবে। সিআইডির সব সদস্য তাকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে সফল হবেন—এই শুভকামনাই রইল। সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে সিআইডিকে সাফল্যের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন, এটাই আজ সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত