সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন বিশ্বজুড়ে। সেই উত্তাপের আঁচ লেগেছে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের ড্রেসিংরুমে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নামার আগে নিজেদের রণকৌশল ঝালিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে মুখোমুখি হচ্ছে জায়ান্টরা। এমনই এক হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি—বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া। যেখানে মাঠের ফুটবলে দাপট দেখিয়ে ২-০ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। বিশ্বমঞ্চে নামার আগে এই জয়টি কেবল একটি সংখ্যামাত্র নয়, বরং এটি লুকাকু-ডি ব্রুইনেদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে বেলজিয়ামের এমন পারফরম্যান্স ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন বিশ্বকাপে তারা একটি বড় চমক হতে যাচ্ছে।

পুরো ম্যাচের চিত্রপট ছিল চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। যদিও বল দখলে ক্রোয়েশিয়া কিছুটা এগিয়ে ছিল, তবে বেলজিয়ামের আক্রমণের ধার ছিল অনেক বেশি কার্যকর। প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের হয়ে গোলের খাতা খোলেন ইউরি টিলেমান্স। তার অসাধারণ এক প্লেসমেন্টে বেলজিয়াম ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সেই গোলটি যেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক নতুন প্রাণশক্তির সঞ্চার করে। ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে টিলেমান্সের ওই গোলটি ছিল টেকনিক্যাল দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ। পুরো প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তার বিশ্বস্ত হাতের ছোঁয়ায় নিশ্চিত গোল হওয়া থেকে দলকে রক্ষা করেছেন বারবার।

ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধ ছিল আরও রোমাঞ্চকর। কোচ কৌশল পরিবর্তনের মাধ্যমে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামান তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে। তিনি মাঠে নামেন ৭৩তম মিনিটে। দীর্ঘ সময় ক্লাব ফুটবলে ইনজুরির কারণে নাপোলির হয়ে নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে না পারা লুকাকু এই ম্যাচে যেন নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পেতে মরিয়া ছিলেন। তার মাঠে নামার মিনিট দশেকের মধ্যেই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে লুকাকু এমন এক গোল করলেন যা তার ক্যারিয়ারের মুকুটে যুক্ত করল আরও একটি উজ্জ্বল পালক। এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৫তম ম্যাচে ৯০তম গোল। মাঠে নামার পর থেকে তার প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি টাচ বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে তিনি ফর্মে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে শেষ মুহূর্তে দলের জয় নিশ্চিত করে তিনি মাঠ ছাড়েন।

ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ অবশ্য হাল ছাড়েননি। পুরো ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত কিছু পাস এবং শট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মদ্রিচের একটি শট যখন গোল হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন থিবো কোর্তোয়া অবিশ্বাস্য দক্ষতায় তা রুখে দেন। উভয় দলের পক্ষ থেকেই গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে দুই দলেরই একটি করে শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার মুহূর্তটি ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করেছেন এক উচ্চমানের লড়াই। একদিকে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের ক্ষিপ্রতা, অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের মানদণ্ড হয়ে থাকবে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, বেলজিয়াম ৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া ৫টি শট নিয়ে মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। এই ব্যবধানটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বেলজিয়ামের ফিনিশিং কতটা নিখুঁত ছিল। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে প্রতিটি দলই চায় নিজেদের রক্ষণভাগ এবং আক্রমণভাগের মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে। বেলজিয়াম এই প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে সেই ভারসাম্যেরই এক সফল পরীক্ষা দিল। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার জন্য এই পরাজয় একটি শিক্ষা হতে পারে, যা তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং বিশ্বকাপে নামার আগে সংশোধন করতে সাহায্য করবে।

ফুটবল কেবল এগারো জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়, এটি আবেগ এবং অনুভূতির একটি সংমিশ্রণ। বেলজিয়ামের এই জয় ভক্তদের মনে বিশ্বকাপ জয়ের নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছে। গ্যালারিতে বসে থাকা হাজারো দর্শক এবং টিভির পর্দায় চোখ রাখা কোটি মানুষের কাছে এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে একটি মহড়া। বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছেন যে, তারা কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই নয়, বরং দলীয় সংহতিতেও কতটা শক্তিশালী। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে মাঠে ভূমিকা রেখেছেন। ইউরি টিলেমান্সের গোল করা থেকে শুরু করে লুকাকুর শেষ মুহূর্তের গোল পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল সুপরিকল্পিত।

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠবে এক একটি যুদ্ধের মতো। বেলজিয়ামের কোচ এই জয় থেকে যা শিখেছেন, তা তিনি বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে পারবেন। বিশেষ করে বদলি খেলোয়াড়দের সঠিক সময়ে মাঠে নামিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা, তা এই ম্যাচে দারুণভাবে সফল হয়েছে। দলের প্রধান তারকাদের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও ছিল আশাব্যঞ্জক। সব মিলিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এই জয় বেলজিয়ামের জন্য বিশ্বকাপের পথে একটি বড় ইতিবাচক ধাপ। সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে, যেখানে বেলজিয়ামের এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকে কি না।

পরিশেষে বলা যায়, প্রীতি ম্যাচগুলো সবসময় কেবল জয়ের জন্য নয়, বরং ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার জন্য খেলা হয়। বেলজিয়াম আজ তাদের রণকৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন চাপ অনেক বেশি থাকবে, তখন এই ধরনের জয় তাদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। বেলজিয়ামের সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, লুকাকু এবং ডি ব্রুইনের মতো তারকারা যদি তাদের ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে বেলজিয়ামের জন্য ট্রফি ঘরে আনা খুব একটা কঠিন হবে না। আজকের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বেলজিয়াম যে বার্তা দিল, তা হলো—আমরা আসছি এবং আমরা প্রস্তুত। মাঠের ফুটবল কথা বলছে, আর সেই কথার সুর এখন পুরো বিশ্বকে বিশ্বকাপের আনন্দের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত