বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গর্ব: ফিরে এলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গর্ব: ফিরে এলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ৪ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও উজ্জ্বল পালক যুক্ত হলো যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের স্থান করে নিলেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৮টা ৫১ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাধ্যমে তিনি তার দীর্ঘ ও সফল যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তার এই ফেরা কেবল একজন মন্ত্রীর ফেরা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক অর্জনের প্রতীক। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষায় থাকা উৎসুক শুভানুধ্যায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তিনি যদিও নীরবতা বজায় রেখেছিলেন, তবুও তার ব্যক্তিত্ব ও অর্জনের ভারে চারপাশ মুখরিত ছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই সফর এবং পরবর্তী দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ড. খলিলুর রহমান। এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক পদ, যা বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বনেতাদের এই বিশাল ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন। নির্বাচনের লড়াইটি মোটেও সহজ ছিল না। ১৯০টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি যখন তাদের ভোট প্রদান করেন, তখন পুরো বিশ্বের নজর ছিল এই ভোটের ফলাফলের ওপর। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সেই নির্বাচনে খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের সমর্থন লাভে সক্ষম হন, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পান ৯১টি দেশের ভোট। এই জয় কেবল খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত দক্ষতা বা বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলের সাফল্য নয়, এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি বাংলাদেশ যে নেতৃত্বের আস্থা জোগাতে পারে, তার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।

দেশে ফিরে ড. খলিলুর রহমান আজই একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘে তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বৈশ্বিক সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। জাতিসংঘ যখন জলবায়ু পরিবর্তন, উদ্বাস্তু সংকট, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিগ্রহের মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন খলিলুর রহমানের মতো একজন দূরদর্শী নেতার নেতৃত্ব বিশ্ববাসীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করছে। তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম অধিবেশনে বৈশ্বিক এই ফোরামের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং সেখান থেকেই শুরু হবে তার নেতৃত্বের অগ্নিপরীক্ষা। বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কীভাবে বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণগুলো সমাধান করেন, সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে খোদ মার্কিন প্রশাসনও। এই অভিনন্দন বার্তা বাংলাদেশের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক আগ্রহ ও বন্ধুত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। কূটনীতিবিদরা বলছেন, খলিলুর রহমানের এই নতুন দায়িত্ব কেবল সরকারের জন্য সম্মান বয়ে আনবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার সুযোগকে অবারিত করবে। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ যেভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে নিজেদের অবদান রেখে চলেছে, এখন সাধারণ পরিষদের সভাপতির চেয়ারে বসে সেই অবদানকে আরও সংহত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ড. খলিলুর রহমানের কর্মপরিকল্পনায় যদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং মানবতা অগ্রাধিকার পায়, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অসামান্য অর্জনে পুরো জাতি আজ গর্বিত। যখন একটি দেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে, তখন দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তার আগমনী মুহূর্তে উপস্থিত জনতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের চোখে-মুখে সেই গর্বের ছাপ স্পষ্ট ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এখন ব্যস্ত সময় পার করবেন তার নতুন দায়িত্বের রূপরেখা তৈরির কাজে। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি কেবল একজন সভাপতি হিসেবে নয়, বরং শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতিসংঘে নিজের অবস্থান সমুন্নত রাখবেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে আরও মসৃণ করে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক নতুন যুগের সূচনা করে।

পরিশেষে বলা যায়, ড. খলিলুর রহমানের এই সফলতা প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং অটল লক্ষ্য থাকলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ছোট হলেও বিশাল প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তার এই জয়যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপকে জাতি সম্মানের সাথে স্মরণ রাখবে। এখন সময় এসেছে তাকে বিশ্বমঞ্চে সফল হতে সহযোগিতা করার এবং তার নতুন কর্মপরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করার। বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে কেবল একজন সদস্য রাষ্ট্র নয়, বরং এখন থেকে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দানকারী দেশগুলোর কাতারে। আমাদের এই গর্ব যেন আগামী দিনগুলোতে আরও বিকশিত হয়, এটাই দেশবাসীর একমাত্র কামনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত