সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ২ বার
তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়

প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রকৃতির নিয়মে তাপমাত্রা যখন অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে, তখন আমাদের শরীরের ওপর তার প্রভাব পড়ে বহুমুখী। তীব্র দাবদাহের এই মৌসুমে অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি যে সমস্যাটি অতি সাধারণ অথচ ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দেখা দেয়, তা হলো প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রস্রাবে সংক্রমণের লক্ষণগুলো যখন দেখা দেয়, তখন শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বস্তি হারিয়ে যায় এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই সমস্যাটি কেবল সাময়িক কোনো অস্বস্তি নয়, বরং অবহেলা করলে এটি দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা বা কিডনির সংক্রমণের মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই এই গরমে নিজেদের সচেতন রাখা এবং সঠিক ঘরোয়া পরিচর্যা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন মূত্রনালির নিচের অংশে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঘটে, তখন তাকে সিস্টাইটিস বা মূত্রথলির সংক্রমণ বলা হয়। আর যখন সংক্রমণ মূত্রনালির ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন তাকে পায়েলোনেফ্রাইটিস বলা হয়। আমেরিকান হেলথ লাইনের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, শারীরবৃত্তীয় গঠনের কারণে নারীরা পুরুষদের তুলনায় এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। নারীদের মূত্রনালি পুরুষদের তুলনায় তুলনামূলক ছোট হওয়ার কারণে মূত্রাশয় থেকে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত মূত্রনালিতে প্রবেশ করতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার এই অবাধ যাতায়াতই মূলত জ্বালাপোড়ার মূল কারণ। তবে এই সমস্যা নিয়ে ভয়ে বা সংকোচে বসে না থেকে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে দ্রুত স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার প্রাথমিক এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো প্রচুর পানি পান করা। তীব্র গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে মূত্রনালির ভেতর ব্যাকটেরিয়া সহজেই বংশবিস্তার করার সুযোগ পায়। নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করলে তা মূত্রাশয়কে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল পানিই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে ফ্লুইডযুক্ত তরল খাবার ও ফলের রসও গ্রহণ করা প্রয়োজন। তরমুজ, শসা, কমলা বা আঙুরের মতো রঙিন ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় উপাদান ও খনিজ থাকে, যা শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।

খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনেও এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার প্রস্রাবের সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। লেবু, আমলকী, পেয়ারা বা কামরাঙার মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। এটি মূত্রনালির পরিবেশকে কিছুটা অ্যাসিডিক করে তোলে, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি, ক্র্যানবেরি ফল ও এর জুস ইউটিআই চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত। এটি মূত্রনালির দেওয়ালে ব্যাকটেরিয়াকে আটকে থাকতে দেয় না। এছাড়া, দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

তবে ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এই সমস্যা সমাধানের প্রধান চাবিকাঠি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যস্ততার কারণে বা কাজের চাপে আমরা দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখি। এই অভ্যাসটি অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রাশয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অঙ্গের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সবসময় চেষ্টা করতে হবে টয়লেটের ব্যবহার পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে সেই স্থান পরিষ্কার রাখতে। সুতি আরামদায়ক পোশাক পরার অভ্যাসও সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। গরমে ঘাম এবং আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়া তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে, তাই নিয়মিত গোসল এবং শরীর শুকনো রাখা জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কোনো সাধারণ সমস্যা হলেও এর তীব্রতা মানুষকে অনেক সময় অস্থির করে তোলে। ঘরোয়া এই উপায়গুলো কেবল জ্বালাপোড়া কমাতেই সাহায্য করে না, বরং এটি শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি দেয়। তবে যদি জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি তলপেটে ব্যথা, জ্বর বা অস্বাভাবিক প্রস্রাব হতে থাকে, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ জটিল হতে পারে, যার জন্য প্রয়োজন হয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কোর্স। তীব্র গরমে নিজের শরীরের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া, নিয়মিত পানি পান করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার মানসিকতাই পারে আমাদের এই কষ্টদায়ক সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে। সুস্থতার জন্য সচেতনতাই প্রথম ধাপ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত