সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন হেড ও মার্শ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন হেড ও মার্শ

প্রকাশ: ৮ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশিদের জন্য এই সিরিজটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক উৎসবের নাম। তবে সিরিজের ঠিক আগমুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া শিবির থেকে আসা দুঃসংবাদ ক্রিকেট ভক্তদের মনে কিছুটা হলেও হতাশার ছায়া ফেলেছে। আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত দল থেকে ছিটকে গেছেন দলের দুই বড় তারকা ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। শুধু তাই নয়, চোটের কারণে দলের লেগস্পিনার তানভীর সাংঘাও খেলতে পারছেন না এই সিরিজে। আকস্মিক এই পরিবর্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শক্তিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

মিচেল মার্শের অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে জানা গেছে তার গোড়ালির ইনজুরি। চোট থেকে এখনো পুরোপুরি সেরে না ওঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ওয়ানডে সিরিজে ঝুঁকি নিয়ে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, তিনি দলের সঙ্গেই থাকছেন এবং ঢাকায় পৌঁছে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেবেন। অন্যদিকে, ট্রাভিস হেডের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেশ বড় ঘাটতি তৈরি করতে পারে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পুরো বাংলাদেশ সফর থেকেই ছুটি নিয়েছেন। হেড কেবল ওয়ানডে নয়, বরং টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, যা অজিদের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ট্রেলিয়ার এই দুই তারকার অনুপস্থিতিতে দলীয় ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে। তবে ক্রিকেট মানেই তো নতুনদের উঠে আসা এবং নিজেকে প্রমাণের সুযোগ। হেডের পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটার অলিভার পিক। মাত্র উনিশ বছর বয়সী এই তরুণ অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। পাকিস্তান সফরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে যেভাবে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা তাকে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের বড় সম্পদে পরিণত করতে পারে। এবার বাংলাদেশের চেনা কন্ডিশনে স্পিন ও রিভার্স সুইংয়ের বিপক্ষে তিনি নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক জশ ইংলিস সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে বেশ সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের পিচ বিদেশি ব্যাটারদের জন্য সবসময়ই অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। এখানকার ধীরগতির উইকেট এবং স্পিনারদের ঘূর্ণিজাল সামলানো যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে রিভার্স সুইং ও ঘূর্ণি পিচে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভাব পূরণ করতে তরুণদের কাঁধে যে গুরুদায়িত্ব পড়েছে, তা ইংলিস কতটা সফলভাবে সামলাতে পারেন, সেটাই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

তানভীর সাংঘার পরিবর্তে অফস্পিনার টড মারফিকে দলে নেওয়ার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া মূলত তাদের বোলিং লাইনআপকে শক্তিশালী করতে চেয়েছে। মারফির অন্তর্ভুক্তি দলের বোলিং বিভাগে বৈচিত্র্য নিয়ে আসবে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এটি মারফির জন্য একটি বড় সুযোগ। তিনি যদি বাংলাদেশের স্পিন সহায়ক উইকেটে নিজেকে কার্যকর প্রমাণ করতে পারেন, তবে তা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাড়তি পাওয়া হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ওয়ানডে সিরিজটি কেবল একটি দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়, বরং উভয় দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের একটি বড় মঞ্চ।

ঢাকার শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৯, ১১ এবং ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া দল তাদের নিয়মিত অধিনায়ক ও সেরা ব্যাটারদের ছাড়া মাঠে নামলেও তাদের গভীরতা যে কম নয়, তা তাদের ঘোষিত স্কোয়াড দেখেই বোঝা যাচ্ছে। জশ ইংলিসের নেতৃত্বে জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন এবং অ্যাডাম জাম্পার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য মার্শের নেতৃত্বাধীন পূর্ণশক্তির দল অজিদের পরবর্তী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্রিকেটের মাঠে অনিশ্চয়তা আর ইনজুরি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। স্বাগতিক বাংলাদেশও তাদের ঘরের মাঠে পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। দুই দলের লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ক্রিকেট ভক্ত। শেষ পর্যন্ত তরুণদের ওপর ভরসা করা অস্ট্রেলিয়া কি পারবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তকমা ধরে রেখে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে, নাকি বাংলাদেশ দলের কৌশলী ক্রিকেটের কাছে হার মানবে তারা—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত