সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্প: ৩ জনের মৃত্যু, সুনামি সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার
ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্প: ৩ জনের মৃত্যু, সুনামি সতর্কতা

প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার আরও একবার প্রমাণ মিলল ফিলিপিন্সে। সোমবার সকালের শান্ত জনপদ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হলো এক বিভীষিকাময় ধ্বংসস্তূপে। ফিলিপিন্সের মিন্দানাও দ্বীপ উপকূলে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা পুরো অঞ্চলে এক গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলে দিয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শক্তিশালী এই কম্পন শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং বহু স্থাপনা ও অবকাঠামোকে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির এই তাণ্ডবে এখন ফিলিপিন্সসহ পুরো এশিয়ায় সুনামি নিয়ে এক ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ফিলিপিন্সের মিন্দানাও দ্বীপের ভূগর্ভের অনেক গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়। কম্পনের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, বহুদূর পর্যন্ত এর প্রভাব অনুভূত হয়। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাণিজ্যিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনবহুল এলাকাগুলোতে ভবন ধসে পড়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষ দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এখানেই শেষ হয়নি। মূল কম্পনের পরপরই এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি বা পিএইচআইভিওএলসিএস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত তারা ১৩৮টি আফটারশক রেকর্ড করেছে। এই আফটারশকগুলোর মাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় সোক্সারগেন শহরে তীব্রতা স্কেলে ১০-এর মধ্যে ৭ মাত্রার ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল ভূমিকম্পের চেয়েও এসব আফটারশক অনেক সময় বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে, কারণ দুর্বল হয়ে পড়া ভবনগুলো দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের কম্পনে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুনামির আশঙ্কা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র থেকে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ফিলিপিন্স উপকূলে ১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু ফিলিপিন্স নয়, সুনামির এই উচ্চ ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলেও। সেখানে ৩ ফুটের বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান সরকার দ্রুত উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যেকোনো ধরনের প্রাণহানি এড়াতে এবং বড় ধরনের ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাঁচতে এখন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা হলো সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সুনামির এই পূর্বাভাসে সমুদ্রতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের পর ফিলিপিন্সে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির সতর্কতা কমই দেখা গেছে। স্থানীয় মানুষ যখন তাদের ঘরবাড়ি ও প্রিয়জনদের নিয়ে দিশেহারা, তখন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা যেন তাদের স্বপ্নগুলোকে তছনছ করে দিচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকা মানুষদের সন্ধান করছেন। প্রতিটি মুহূর্ত এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে।

প্রকৃতির এই অমোঘ শক্তির কাছে মানুষের অসহায়ত্ব আজ আবারও ফুটে উঠেছে। ফিলিপিন্সের এই ভয়াবহ ভূমিকম্প পুরো পৃথিবীর নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিপদের মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে মূল লড়াইটা লড়তে হচ্ছে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের, যারা চোখের সামনে হারিয়েছেন তাদের স্বজন ও সহায়-সম্বল। বৈজ্ঞানিক সতর্কবার্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচা এখনো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সুনামি সতর্কতা জারি করার পর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের ভয় আর ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশকের আতঙ্ক—সব মিলিয়ে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এখন এক চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

শান্ত মিন্দানাও দ্বীপে সোমবারের সেই সকালটি ছিল জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ দিন। ভেঙে পড়া দেয়াল, আর্তনাদ আর সুনামির আশঙ্কার মাঝে বেঁচে থাকার লড়াই চলছে অবিরাম। বিশ্বজুড়ে মানুষ প্রার্থনা করছে যেন প্রকৃতির এই রোষ দ্রুত শান্ত হয় এবং আর কোনো বড় ধরনের ক্ষতি না ঘটে। এই বিপর্যয় আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের সামনে মানুষ কতটা ক্ষুদ্র ও দুর্বল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—এই ধ্বংসলীলা কাটিয়ে ফিলিপিন্স কত দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এবং এই বিশাল দুর্যোগের পর তারা কীভাবে একে মোকাবিলা করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত