সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১০ বার
ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বর্তমানে এক গভীর সংকট ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা সোমাবার সকালে রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। গ্রাহক ফোরামের ডাকা এই দুই ঘণ্টার কলমবিরতি ও বিক্ষোভের কারণে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সকাল থেকেই ব্যাংকের সামনে উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয়ের কারণে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে।

সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকের মূল শাটার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে অসংখ্য গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। কর্মীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলেও গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেবা না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। ব্যাংকটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকালে সেবা বন্ধ থাকায় পরে সেবা দিতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ব্যাংক কর্মীদের।

ব্যাংক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ফিরে যাওয়া একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে লেনদেন করতে এসেছিলাম, কিন্তু ব্যাংকের শাটার বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে। অন্য একটি শাখায় যাওয়ার পর সেখানেও একই অবস্থা দেখতে পেয়েছি। ব্যাংকিং খাতের এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা তাদের আমানত ও লেনদেন নিয়ে গভীর আতঙ্কে রয়েছেন। এদিকে আন্দোলনকারী গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের দাবিতে অনড়। ফোরামের আহ্বায়ক নুর নবী মানিক বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। যতক্ষণ না তার নিয়োগ বাতিল করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন চলছে। গত ১ জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে শুরু করে প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ—সবখানেই আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর আগে গত ৪ জুন এক ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করেছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। সেই সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করেছে, যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও।

আন্দোলনের মুখে সোমবার ব্যাংকটির নির্ধারিত পর্ষদ সভা সরাসরি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে রাতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে পাঁচজন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সভায় ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এর আগে গত ২৪ মে আগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগের পর থেকেই মূলত অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে।

ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে। শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সাধারণ গ্রাহকদের আস্থার জায়গাটি টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা। কারণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা দীর্ঘমেয়াদে পুরো অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

সোমবারের এই কলমবিরতি ও আন্দোলন প্রমাণ করে যে, ব্যাংকের গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টরা বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন। ব্যাংকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতিও পরিস্থিতি যে কতটা উদ্বেগজনক তার প্রমাণ দেয়। একদিকে গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রণা, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা—সব মিলিয়ে এক অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে ও ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা দেশের ব্যাংক খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, যার দায়ভার দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত