সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার
লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ

প্রকাশ: ০৮ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। উচ্চশিক্ষার এই নতুন দুয়ার উন্মোচনের পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদকে এই নতুন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত রোববার সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজের স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর লক্ষ্মীপুরসহ পুরো অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে। নতুন উপাচার্যকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ ইতিপূর্বে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের অত্যন্ত সফল অধ্যাপক এবং ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার একাডেমিক প্রজ্ঞা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে মূল্যায়ন করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর তাকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে পেয়ে লক্ষ্মীপুরবাসী উচ্ছ্বসিত। সোমবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রজ্ঞাপনের কপি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সর্বস্তরের মানুষের অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন তিনি। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, অধ্যাপক ড. হানিফ মুরাদের এই দায়িত্বের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর। তবে এই মেয়াদের বিষয়টি তার অবসর গ্রহণের সময়ের সাথেও যুক্ত থাকবে, অর্থাৎ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি তার অবসর গ্রহণের সময় উপস্থিত হয়, তবে তিনি অবসরে চলে যাবেন। প্রজ্ঞাপনে তার বেতন-ভাতাদি সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার পূর্বের পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাই পাবেন এবং নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য হিসেবে অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে তাকে, যাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কার্যক্রমকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিতে পারেন।

লক্ষ্মীপুর জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। এই জেলাটি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রধান এলাকা হলেও, উচ্চশিক্ষার বিশেষায়িত কোনো প্রতিষ্ঠানের অভাব ছিল প্রকট। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ কেবল লক্ষ্মীপুর নয়, বরং সংলগ্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানের আধুনিক শাখাগুলোতে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেবে। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই ভিসি নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয়রা। এখন ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের পথ সুগম হলো। এটি লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. হানিফ মুরাদের জন্য এই দায়িত্ব কেবল একটি প্রশাসনিক পদ নয়, বরং একটি নতুন প্রতিষ্ঠানকে শূন্য থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাকে ক্যাম্পাসের অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে দক্ষ শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ, সিলেবাস প্রণয়ন এবং আধুনিক গবেষণাগার তৈরির মতো জটিল কাজগুলো মোকাবিলা করতে হবে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছিল, যে অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। এটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। উপাচার্য হিসেবে তার এই যাত্রা লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন মানচিত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার সাথে স্থানীয় অর্থনীতিকে সংযুক্ত করার যে লক্ষ্য, তা পূরণ করতে তিনি নিরলস কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হতে যাচ্ছে তাদের আগামীর স্বপ্ন পূরণের ঠিকানা। স্থানীয় পর্যায়ের তরুণরা এখন আর উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য জেলায় ছুটে যাওয়ার বাধ্যবাধকতায় থাকবেন না। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল ডিগ্রি প্রদানের কারখানা নয়, বরং একটি সৃজনশীল ও মননশীল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠবে—এমনটিই প্রত্যাশা করছেন অভিভাবকরা। লক্ষ্মীপুরের মানুষ এখন অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন কখন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু হয় এবং তাদের সন্তানদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে এই নতুন বিদ্যাপীঠ। এই দায়িত্বপ্রাপ্তি কেবল একজন শিক্ষাবিদের জন্য ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত