প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন নানা সমীকরণে আবর্তিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি গঠন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়টি দলের নজরে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ৮ জুন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই অপতৎপরতা সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলের পক্ষ থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দলের মিডিয়া সেলের একমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে এবং এর বাইরে সারা দেশে জেলা কিংবা মহানগর পর্যায়ে এই নামে কোনো কমিটি গঠনের অস্তিত্ব নেই। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদেরকে ওই সেলের অনুমোদিত দাবি করে বিভিন্ন জেলায় কমিটি ঘোষণা করে আসছে। এই ভুয়া কমিটিগুলো শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলাই তৈরি করছে না, বরং তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, যারা এই ধরনের অননুমোদিত এবং ভুয়া কমিটি প্রচার করছে, তাদের সাথে কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির মানুষ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য প্রতিনিয়ত অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে অসংখ্য পেজ, গ্রুপ এবং কমিউনিটি খুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। এসব পেজ থেকে ভুয়া খবর, বানোয়াট তথ্য এবং দলের পদ-পদবি সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিএনপি মিডিয়া সেল জোর দিয়ে বলেছে, তাদের নামে পরিচালিত এই ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো দলের কোনো অনুমোদিত কার্যক্রমের অংশ নয়। নেতাকর্মীরা যেন এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত না হন এবং কোনোভাবেই এসব গ্রুপের মিথ্যা প্রলোভনে পা না দেন, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দলের শৃঙ্খলাবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের কাজ সরাসরি শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। ভবিষ্যতে যারা এই ধরনের ভুয়া কমিটি গঠন বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে বিএনপি কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় বলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও একটি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির মিডিয়া সেলের কোনো সংবাদ বা ঘোষণা জানতে হলে দলের অফিসিয়াল উৎস বা মাধ্যমগুলো যাচাই করা জরুরি। অননুমোদিত কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের দেওয়া তালিকা বা প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। অসাধু চক্রের তৈরি করা এই বানোয়াট তথ্যের তালিকা ব্যবহার করে যাতে কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম বিভ্রান্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে দলটির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কারণ, ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনীতিতে এই ধরনের ভুয়া কমিটি গঠন ও অপপ্রচার কোনো নতুন ঘটনা নয়, তবে একটি কেন্দ্রীয় শাখার নামে এভাবে ধারাবাহিক ভুয়া কমিটি ঘোষণা দলের ভেতর এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টাই স্পষ্ট করে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ভেতরকার ঐক্য বজায় রাখা যখন অত্যন্ত জরুরি, তখন এ ধরনের বিভেদ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড দলের তৃণমূলের শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। মাঠ পর্যায়ের অনেক নতুন বা কর্মঠ নেতাকর্মী এসব ভুয়া কমিটির প্রলোভনে পড়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন, যা দলের মূলধারার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির এই সতর্কবার্তা সময়োপযোগী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড যাতে আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে দলীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য দলের সুনাম নষ্ট করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা যেকোনো কমিটি বা ঘোষণার সত্যতা সম্পর্কে দলের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে পরামর্শ করেন অথবা কেন্দ্রীয় দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। বিএনপির মতো একটি বিশাল দলের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নেতাকর্মীর। এই দায়িত্ব পালনে মিডিয়া সেলের এই সতর্কবার্তা দলের স্বচ্ছতা ও শুদ্ধি অভিযানের একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বিএনপির মিডিয়া সেলের এই উদ্যোগ দলের সুনাম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গুজব বা ভুয়া খবরের যুগে সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করা হচ্ছে, এই সতর্কবার্তার পর অসাধু চক্রগুলো তাদের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকবে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সচেতনতার পরিচয় দেবেন। দলের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কমিটি গঠনের মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দলে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা পুনরায় ফিরে আসবে।