প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও আসন্ন মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহল বলছে, আগামী কয়েক মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই আমদানি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, আমদানি করা জ্বালানি তেলের মধ্যে থাকবে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম পণ্য, যা মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিবহন খাত এবং শিল্প উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম আমদানি সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি হলে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাই সময়মতো জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিশাল অঙ্কের আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে তারা একইসঙ্গে বলছেন, জ্বালানি সংকট এড়াতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি করা জ্বালানি নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিতরণ ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় রেখে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশা থাকলেও জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে মূল্য পরিবর্তনের ঝুঁকি এই খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
সব মিলিয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।