চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মারমা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, খাগড়াছড়িতে চাঞ্চল্য

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৩১ বার

খাগড়াছড়িতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক মারমা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের পর ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগী মারমা নারী। পরবর্তীতে চাকরির বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কথা বলে তাকে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানেই তার সঙ্গে অসদাচরণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, চাকরির আশায় ওই নারী অভিযুক্ত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু চাকরির ব্যবস্থা করার পরিবর্তে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। পরে তিনি বিষয়টি পরিবারকে জানান এবং স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারী হয়রানির ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন, “পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা অনেক সময় কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে বিভিন্ন প্রতারণার শিকার হন। তাই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, চাকরি, প্রশিক্ষণ বা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে নারী হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক লজ্জা, ভয় কিংবা বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে চান না। ফলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়।

তাদের মতে, নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাকরি সংক্রান্ত প্রতারণা ও হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় এ বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, যেকোনো শ্লীলতাহানি বা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয়ের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। তারা বলছেন, চাকরির আশায় গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থানের সংকটকে পুঁজি করে প্রতারণা ও হয়রানির ঘটনা রোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চাকরি সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে, খাগড়াছড়িতে চাকরি দেওয়ার নামে এক মারমা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নতুন করে নারী নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট প্রতারণার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত