বিশ্ব ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো নিপীড়ক শাসকের নজির আর দেখা যায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮৫ বার
বিশ্ব ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো নিপীড়ক শাসকের নজির আর দেখা যায় না

প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট’ ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুল আলোচিত জুলাই বিপ্লব পরবর্তী গণহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ বিচার কার্যক্রমের সূচনালগ্নে তিনি বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হয়নি। তিনি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার।”

তিনি বলেন, “যদি কোনো স্বৈরাচার মিথ্যার ওপর পিএইচডি করতে চায়, তবে তাকে শেখ হাসিনার কাছেই শিখতে হবে। স্বৈরাচারদের যদি কোনো আন্তর্জাতিক সমিতি গঠন করা হয়, তবে শেখ হাসিনা হবেন তার সভাপতি।” এমন তীব্র ভাষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা সরকারের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান প্রকাশ করেন।

এই মন্তব্য তিনি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের আগেই, মামলার তিন প্রধান অভিযুক্তের মধ্যে অন্যতম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, এই মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে, যা দেশজুড়ে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিঘাত তৈরি করেছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য এ মামলার রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন পৃথিবীর বিভিন্ন স্বৈরশাসকের পরিণতির দৃষ্টান্ত এবং বলেন, “স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তিই দেশের জন্য প্রয়োজনীয়।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে আজকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহাম্মদ মোহিতুল হক। এই গুরুত্বপূর্ণ বিচার কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যাতে দেশবাসী ঘটনার আপডেট জানতে পারেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলার শুনানি কেবল রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা এবং মানবাধিকার রক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত