সাড়ে ৩ লাখ টনের বেশি সার আমদানি করছে সরকার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি অর্থবছরে দেশের কৃষি খাতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৪ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরকারের অনুমোদিত আমদানির মধ্যে রয়েছে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া, ৬০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ১ লাখ ২০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং ১ লাখ ১৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের এসএবিআইভি এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) লিমিটেড থেকে আরও ৩০ হাজার টন ইউরিয়া কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে মোট ৭০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানি করা হবে। কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ এই উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে ইউরিয়া সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে জিটুজি বা সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রি-ক্রপস থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। অর্থাৎ মোট ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি আমদানি করা হবে।

অন্যদিকে এমওপি সার আমদানির জন্য কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন ও রাশিয়ার ফরেন ইকোনমিক করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে।

কৃষি উৎপাদনে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার দেশের বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উৎস ও দেশের সঙ্গে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সারের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একসঙ্গে বড় পরিমাণ সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

আমদানির উৎস হিসেবে সৌদি আরব, মরক্কো, কানাডা, রাশিয়া এবং দেশের নিজস্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাফকোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও স্থানীয় উৎস থেকেও সার সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়, সেটিই আমদানি পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমানো সম্ভব হবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত