দুই ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬২ বার
দুই ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহীর আড়ানী স্টেশনের কাছে রেললাইনের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ ব্যাহত থাকার পর তা আবার স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আকস্মিক এ ঘটনায় রাজশাহী-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্টেশন ও বিভিন্ন পথে আটকে পড়ে কয়েকটি ট্রেন এবং ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আড়ানী স্টেশনের কাছাকাছি রেললাইনের একটি অংশে ত্রুটি ও ভাঙন দেখা দিলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেরামতকাজ শুরু করেন। দ্রুত কাজ শেষ করার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রেললাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে মেরামতকাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

সকালের ব্যস্ত সময়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। রাজশাহী স্টেশনে আটকা পড়ে রাজশাহী-ঢাকা রুটের জনপ্রিয় বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। এ ছাড়া সাগরদাঁড়ি, মধুমতি ও বরেন্দ্রসহ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থেমে থাকে।

হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য, কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং কেউ দীর্ঘ যাত্রায় রাজধানী বা দেশের অন্য প্রান্তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে এসেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়তে না পারায় তাদের অপেক্ষা করতে হয়।

তবে রেলওয়ের কর্মীরা দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করায় দীর্ঘ সময়ের জন্য রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেললাইন সংক্রান্ত যেকোনো ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণেই পরিস্থিতি যাচাই না করে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাজশাহী অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই রুট ব্যবহার করেন। তাই রেললাইন ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও এর প্রভাব দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীদের ওপর পড়ে।

বিশেষ করে সকালে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনের কথা ভাবতে শুরু করলেও বেশির ভাগ যাত্রী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। পরে মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হলে স্বস্তি ফিরে আসে যাত্রীদের মধ্যে।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামতের সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেরামতকাজ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রেললাইন পরীক্ষা করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী নিশ্চিত হওয়ার পর পুনরায় যোগাযোগ চালু করা হয়।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে আটকে থাকা ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। তবে প্রায় দুই ঘণ্টার বিঘ্নের কারণে কিছু ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন ও বিলম্ব দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ হওয়ার ঘটনায় আবারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। রেললাইন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত রুটগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোর মান বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ একটি ছোট কারিগরি সমস্যাও কখনো কখনো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মঙ্গলবারের ঘটনায় দ্রুত ট্রেন চলাচল বন্ধ করে মেরামত শুরু করায় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ট্রেন শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাই রেল যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব পড়ে মানুষের দৈনন্দিন পরিকল্পনায়।

মঙ্গলবার সকালের ঘটনায় ভোগান্তি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বস্তি পেয়েছেন যাত্রীরা। রেলওয়ের তাৎক্ষণিক মেরামতকাজের ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেনি।

বর্তমানে আড়ানী স্টেশন এলাকার ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বিলম্বিত ট্রেনগুলোর কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে সময়সূচিতে কিছুটা প্রভাব থাকতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে যাত্রীদের প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ আরও জোরদার করা হবে, যাতে হঠাৎ রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার ঘটনা কমে আসে। নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও সময়নিষ্ঠ রেলসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথের ওপর মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com