প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালুর পর মাত্র আট সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
গত ২৮ জুন থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এসব লেনদেন হয়েছে। দেশের সব ধরনের কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এ ব্যবস্থায় লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে।
গত ১ জুলাই থেকে দেশের সব প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয়। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার কেনাকাটা করা হতো।
তবে আট সপ্তাহের মধ্যে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের অর্থমূল্যও বেড়ে প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
অর্থাৎ, বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর ব্যবহারের ফলে শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, প্রতিটি দিনে এর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া মোট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। গত ১ জুলাই দেশে প্রায় ১৬ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর ছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলা কিউআর গ্রহণকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দৈনিক লেনদেনের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিউআরভিত্তিক পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
বাংলা কিউআর ব্যবহারে বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর পৌঁছে দেওয়ার ফলে এর ব্যবহারকারীর পরিধি দ্রুত বাড়ছে।
বাংলা কিউআর হলো বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা বিভিন্ন ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবার অ্যাপ ব্যবহার করে মার্চেন্টকে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন।
দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সমন্বিত করতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। মার্চেন্টের সংখ্যা ও লেনদেনের বর্তমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দৈনন্দিন কেনাকাটায় কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।