প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরার সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী অধ্যাপক ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার খবরে তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থানের পর ঢাকায় ফেরার মধ্য দিয়ে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ফেরার পথও তৈরি হলো। তবে চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানাতে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ছিলেন।
বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ডা. তাহেরের দেশে ফেরাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানকালে তার শারীরিক সুস্থতা নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ ছিল। দেশে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে ঘনিষ্ঠজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে সংসদীয় রাজনীতিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান এবং দেশে ফিরে আসার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আগ্রহ তৈরি করেছে।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা পেশার সঙ্গেও যুক্ত। তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইটও চিকিৎসক। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণীর উপস্থিতি ছিল। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনেই তারা সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেছিলেন বলে জানা গেছে।
দেশে ফেরার পর এখন তার পরবর্তী কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে সাধারণত রাজনৈতিক নেতারা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তবে ডা. তাহেরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান তার দলীয় কর্মকাণ্ডেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণ, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের ভূমিকা থাকে। ফলে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর ডা. তাহেরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি দলীয় পর্যায়েও গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংসদীয় ভূমিকা। সংসদীয় কার্যক্রম, বিরোধী দলের অবস্থান এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কার্যক্রমের সঙ্গে এ দায়িত্ব যুক্ত। তাই তার দেশে ফেরার ফলে সংসদীয় কার্যক্রমেও তিনি আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা শেষে শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হতে পারে। রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য আপাতত তার দেশে ফেরাটিই স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এতে দলের অভ্যন্তরে তার গুরুত্ব এবং তার সঙ্গে রাজনৈতিক সহকর্মীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দেশে ফেরার পর দলীয় পর্যায়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে তার মতামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন সময় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে ফিরে আসার ঘটনাও নিয়মিত দেখা যায়। ডা. তাহেরের ক্ষেত্রেও দেশে ফেরার বিষয়টি সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তার দেশে ফেরার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত পর্যায়েও তার সুস্থতা নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন তাদের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
দেশে ফেরার পর তার সামনে একদিকে নিজের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-পরবর্তী বিশ্রামের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দায়িত্বও রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরলে তা তার জন্য অধিকতর স্বস্তিদায়ক হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহকর্মীরাও তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা যায়।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে ডা. তাহেরের দায়িত্ব শুধু দলীয় রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরা, জাতীয় বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রেও তার দায়িত্ব রয়েছে। ফলে চিকিৎসা শেষে তার দেশে প্রত্যাবর্তন সংসদীয় ও দলীয় উভয় পরিসরেই তাৎপর্য বহন করছে।
এদিকে দেশে ফেরার পর তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা গেলে রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ কিছুটা কমতে পারে। আপাতত চিকিৎসা শেষে তিনি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন—এটিই তার ঘনিষ্ঠজনদের জন্য স্বস্তির খবর। সামনে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তার বিদেশে চিকিৎসা-পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছানোর পর দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। এখন তার সুস্থতা ও চিকিৎসা-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সংসদীয় কার্যক্রমে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তার সহকর্মী ও সমর্থকেরা।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত