জাতীয় নাগরিক পার্টি পূর্ণ শর্তপূরণে ইসির নিবন্ধনের পথে এগিয়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
নিবন্ধনের জন্য ১০ দলের কার্যক্রমে অনুসন্ধান শুরু ইসির

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সকল শর্ত পূরণ করে শতভাগ পাস করেছে। এই কারণে দলটি এখন নবনির্মিত দলের মধ্যে নির্বাচনী নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ২১টি দল নানা কারণে এখনও নিশ্চিতভাবে শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি অন্যতম। এসব দলের তথ্য যাচাই ও শর্ত পূরণের বিষয়ে ইসি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ জানায়, সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২২টি নতুন দলের তথ্য বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। শুধুমাত্র এনসিপিই সব শর্ত পূরণে সক্ষম হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দলের ২২ জেলায় অফিস রয়েছে, এসব অফিসের অধীনে গঠিত কমিটির সদস্য সংখ্যা যথাযথ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া ১০০ উপজেলার পর্যায়ে অফিস এবং প্রতিটি কমিটিতে ২০০ জন সদস্য থাকার তথ্যও যাচাই করা হয়েছে। এসব ভিত্তিতে এনসিপিকে নির্বাচনী নিবন্ধনের অগ্রবর্তী তালিকায় রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল এনসিপি। এছাড়া এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনি গ্রুপের দল বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি ব্যাপক নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও শতভাগ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন এই ধরনের দলের কাছ থেকে পুনরায় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নতুন দলগুলোর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং কোথায় ঘাটতি আছে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে শর্ত পূরণের পর নিবন্ধন চূড়ান্ত হবে।” তিনি আরও জানান, ৩১ আগস্ট থেকে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে ২২ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ইসির মাঠ অফিস। পরে সচিবালয় এই তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এনসিপি সহ কয়েকটি দলের তথ্য সীমিতভাবে ঘাটতি ছিল, যা তারা পূরণ করেছে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দলের তথ্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা গেছে। এ কারণেই কমিশন ২২ দলের মধ্যে ছয়টি দলের কাছে পুনরায় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে। মৌখিকভাবে তথ্য পূরণের জন্য অনুরোধ করেও কিছু দল তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নিবন্ধন চাওয়া নতুন আলোচিত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে এনসিপি, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, আমজনতার দল, বাংলাদেশ উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি, জনতার দল, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাহজাহান সিরাজ) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। পুনরায় তথ্য পেলে কমিশন সভা করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে তাদের নিবন্ধন চূড়ান্ত করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসির পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা স্বচ্ছ ও কার্যকর বলে মূল্যায়ন করছেন। তারা মনে করেন, নতুন দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং জনগণের ভোটাধিকারের প্রয়োগকে আরও বিস্তৃত করবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বর্তমানে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪৯টি। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আয়োজন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি-এর সম্পূর্ণ শর্তপূরণের কারণে দলটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে এনসিপি-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সংগঠনগত কার্যক্রমের প্রতি দলের মনোযোগ প্রমাণ করছে যে, তারা শুধুমাত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণই নয়, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থায়িত্বের জন্যও প্রস্তুত।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সকল তথ্য যাচাই-বাছাই, মাঠ পর্যায়ের তদন্ত এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে দলগুলোর শর্ত পূরণের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এর ফলে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্ভরযোগ্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, এনসিপি শতভাগ শর্তপূরণের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন দল তথ্যগত ও সংস্থা কাঠামোগত কারণে এখনও চূড়ান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেনি। কমিশন তাদের পুনরায় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে, যাতে নির্বাচনের আগে সকল দলের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়।

নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের কার্যক্রম দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এনসিপি-এর এই অগ্রগতি ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি, দেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মানোন্নয়নেও এই ধাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত