সিলেটের জকিগঞ্জের সন্তান নিউয়র্ক সিটির মিজান ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ এর অর্থ যুগান দাতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
ঢাকায় গ্রেপ্তার,বগুড়া আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল হাসান ববি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটে কট্টর আওয়ামী লীগের সমর্থক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ওরফে মিজান, সম্প্রতি বিভিন্ন নাশকতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারিতে আসেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি সিলেট জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং জেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নাশকতার অর্থ সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামে। বাবা হাবিবুর রহমান চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে মিজানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ ও খোঁজখবর চালাচ্ছে। সংস্থার প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তার পুরো পরিবারই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মিজানের ভাই ওলিউর রহমান চৌধুরী নিউইয়র্কে ব্যবসায়ী হিসেবে থাকলেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন।

মিজানের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর জকিগঞ্জে আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের মিছিল ও সমাবেশের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, তার ইন্ধনে ও অর্থায়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন সময়ে মিছিল করেছে। ত্রাণসামগ্রী বিতরণেও তার বাড়ি কেবল আওয়ামী সমর্থক লোকজনকে উপস্থিত রাখে।

একটি ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ওপর মিজান ডিম নিক্ষেপ করে। এই ঘটনা মিজান নিজেই ফেসবুকে স্বীকার করেছেন এবং একটি ভিডিও পোস্টের সঙ্গে লিখেছেন, ‘খাইয়া দিছি টেরোরিস্ট আকতারকে।’ পরে পুলিশ তাকে আটক করে। গ্রেফতারের পরেও তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টায় লিখেছেন, ‘আমি কারাগার থেকে বলছি, শেখ হাসিনার কর্মী মিজানুর রহমান চৌধুরী। জয় বাংলা।’

মিজানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপির এক কর্মীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সুলাইমান হকের বর্ণনা অনুযায়ী, বিএনপি-সমর্থিত ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন যে মিজান তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে আনা হয়।

মিজানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল স্থানীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক মণ্ডলেও তা প্রভাব ফেলেছে। মিজান দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় সপরিবারে বসবাস করছেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছে বিতরণ করেছেন। বিশেষ করে ঈদের সময় বড় পরিমাণ অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এর ফলে তার কার্যক্রম শুধুমাত্র সিলেটের রাজনৈতিক চিত্রকেই প্রভাবিত করছে না, বরং প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীদের কর্মকাণ্ডেও এটি প্রতিফলিত হচ্ছে।

একটি সূত্র জানায়, মিজান বিদেশে অবস্থানকালে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তার ভাই ওলিউর রহমান চৌধুরী নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করে। ২০২৪ সালের গণভবনের প্রবাসী নেতাদের সভায় মিজানের উপস্থিতি এটিকে স্পষ্ট করে।

গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় পুলিশ মিজানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৎপর রয়েছে। তার পরিবারের সকল সদস্যের রাজনৈতিক সংযোগ এবং বিভিন্ন সময়ে বিতৃত অর্থ ও সমর্থনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জানা গেছে, নায়িকা মৌসুমির সঙ্গেও মিজানের ঘনিষ্ঠতার তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জটিলতা তুলে ধরে।

মিজানের বাড়িতে কেবল আওয়ামী সমর্থক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ এবং রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিজানের কার্যক্রম সিলেটের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব তৈরি করেছে। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক নাসির উদ্দিন খান এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পলাতক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মিজানের কর্মকাণ্ড কেবল অর্থায়ন বা সমর্থন বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক নীতি অনুসরণ করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আত্মগোপন অবস্থায় রক্ষা ও পুনরায় সক্রিয় করার দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের প্রভাব এবং অর্থের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের মিছিল ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেছেন।

মিজানের ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর মাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে এসেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা তাকে নজরদারিতে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিজানের মতো প্রবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমন্বয় ব্যক্তি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রভাবও তৈরি করতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

এদিকে, পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, মিজানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি কর্মীর ওপর হামলার চেষ্টা, জাতীয় পার্টির সদস্যের ওপর ডিম নিক্ষেপ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নাশকতায় অর্থায়নের বিষয়গুলো তদন্তাধীন। স্থানীয় সূত্রের খবর, মিজান বিদেশ থেকে নিয়মিত অর্থ প্রেরণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে।

মিজানের কর্মকাণ্ড এবং গ্রেফতারের ঘটনা সিলেটের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি নতুন প্রভাব তৈরি করেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল জেলা রাজনীতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নজরদারিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব একত্রে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তার গ্রেফতারের পরেও তার কার্যক্রমের প্রভাব, পরিবারের রাজনৈতিক সংযোগ এবং প্রবাসী সমর্থনের মাধ্যমগুলো নজরদারি ও তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন-এর পক্ষ থেকে বলা যায়, মিজানের কার্যক্রম, তার পরিবার ও আন্তর্জাতিক সংযোগ স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলে, যা ভবিষ্যতে সিলেট ও দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত