বিএনপি নির্বাচনমুখী কার্যক্রমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে নামানোর প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
ফখরুলের সঙ্গে বৈঠকে সুনামগঞ্জ বিএনপি নেতাদের হট্টগোল

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন কার্যত ভোটমুখী রাজনীতিতে মনোযোগী হয়ে উঠছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি তৎপরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নেতৃত্বে আসনভিত্তিক প্রচারণা ও কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। লক্ষ্য একটাই—নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে একটি নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করা এবং জনগণকে ভোটমুখী করে তোলা। যদিও এখনো পর্যন্ত এ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বিএনপি স্পষ্ট করে জানায়নি।

গত সোমবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে রাজনৈতিক সাম্প্রতিকতা, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের নিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষমূলক আচরণ এবং ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্ক নিয়েও আলাপ হয়।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভোট আয়োজনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ঘোষণা দিয়েছেন যে ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। কিন্তু ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণায় নেমে পড়েছে। বিএনপির মতে, এ ধরনের আগাম কার্যক্রম নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা চাইছে, তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই মাঠে নেতৃত্ব নেবেন এবং জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে নির্বাচনের আবহ তৈরি করবেন।

দেড়শ আসনে তেমন জটিলতা নেই

প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়েও বিএনপি এখন অনেকটা অগ্রসর। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ আসনে এমন সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন, যাদের নিয়ে ভেতরে-বাইরে খুব একটা প্রশ্ন নেই। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই আবার প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। তবে যেসব প্রার্থী প্রয়াত হয়েছেন বা শারীরিকভাবে আর সক্রিয় নন, সেখানে নতুন প্রার্থীর নাম বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাকি দেড়শ আসনে এখনো আলোচনার অবকাশ রয়েছে। সেসব আসনে বিভিন্ন জরিপ, সাংগঠনিক রিপোর্ট ও ত্যাগী নেতাদের ভূমিকার ভিত্তিতে নতুন প্রার্থী বাছাই করা হবে। বিএনপি মনে করছে, আগামী নির্বাচনে অন্তত শতাধিক আসনে তরুণ প্রার্থীকে মনোনয়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে নতুন বার্তা দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাই অগ্রাধিকার পাবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের মধ্যেই বিএনপি এবং তাদের যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের মধ্যে প্রার্থী ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। প্রক্রিয়াটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান।

দুর্গাপূজায় বিএনপির সহযোগিতা

বৈঠকে আলোচনায় আসে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নিয়েও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা জানিয়ে দেন, অতীতের মতো এবারও তারা পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সব ধরনের সহায়তা দেবেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যাতে নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকেন এবং কোনো অপশক্তি পূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা চালাতে না পারে।

ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল জানান, প্রতিটি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে মণ্ডপ পাহারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নিউ ইয়র্কে অপ্রত্যাশিত ঘটনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী বিএনপি ও মিত্র রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দুর্ব্যবহারের ঘটনাও বৈঠকে আলোচিত হয়। বিএনপি এ ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছে এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ড. ইউনূসের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। তাদের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক আচরণ বাংলাদেশি রাজনীতির ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছে বিএনপি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে ফখরুলের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেখানে তার কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন ফখরুল, যা নীতিনির্ধারকদের সন্তুষ্ট করেছে। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি আসলে বিকৃত ও মনগড়া।

সার্বিক চিত্র

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির কৌশল এখন পরিষ্কার হচ্ছে। একদিকে প্রার্থী বাছাই, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা শুরু করার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে দলটি নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের সক্রিয় ও প্রস্তুত প্রমাণ করতে চাইছে। তবে চূড়ান্ত কৌশল কী হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নেতৃত্বে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে পারলে নির্বাচনী আবহ সৃষ্টির পাশাপাশি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিও দৃঢ় করতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত