প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও চরমপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য তারা সেনা সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধিসহ নিরাপত্তা সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জমিয়তের নেতারা পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার, এবং ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা থেকে আগত অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন। তারা মনে করেন, দেশের অখণ্ডতা রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের একক দায়িত্ব নয়, বরং এটি জাতীয় কর্তব্য। এজন্য দল-মত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গত কয়েক মাসে উদ্বেগজনকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম বেড়েছে। এতে স্থানীয় জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়িক, সামাজিক ও শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার না করলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।
জমিয়ত নেতারা তাদের বিবৃতিতে আরও বলেন, “সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপই পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় কার্যকর হবে।” তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজকে একত্রিত হয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বানও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করা শুধু সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় এবং সীমান্ত এলাকার অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী শান্তি অর্জন করা সম্ভব। জমিয়তের বক্তব্যেও এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণও নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা চান সশস্ত্র সংঘাত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম যেন স্থানীয় মানুষদের জীবন, সম্পদ ও শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা না দেয়। এই অঞ্চলের মানুষ আশা করছেন, সেনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ স্থানীয় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জমিয়তের নেতারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও নিরাপত্তা শুধুমাত্র সেনাবাহিনী বা সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো জাতির দায়িত্ব। তাই রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা উচিত। তারা উল্লেখ করেছেন, “দেশের স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম রোধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।”
এই বিবৃতিতে স্থানীয় এবং জাতীয় স্তরে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম জোরদারের গুরুত্বেও জোর দেওয়া হয়েছে। জমিয়তের নেতারা মনে করেন, সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম দমন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করা শুধুমাত্র সামরিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যকর হবে না। স্থানীয় জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি, সীমান্তের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা এবং গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহারই দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। জমিয়তের এই বিবৃতিও মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই প্রদান করা হয়েছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জমিয়তের পক্ষ থেকে উচ্চস্বরে জানানো হয়েছে। দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের বক্তব্যে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বানও সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
চূড়ান্তভাবে, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি শুধু একটি রাজনৈতিক বা সামরিক বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় শান্তি প্রতিষ্ঠার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। জমিয়তের এই বিবৃতি দেশের সকল স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং আশা করা হচ্ছে, এটি সরকারের পদক্ষেপকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করবে।